Ticker

10/recent/ticker-posts

Add

শান্তশিষ্ট সিনিয়ার বউ






Part_1

collected

-------কই গেছিলে??(আশা)

-------এই ত একটু বাইরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে।তখন না বললাম তোমাকে !(আমি)

------কি বলছিলে??বাইরে যাচ্ছি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে। তাই পারমিশন দিয়েছি কিন্তু এটা পারমিশন দেইনাই রাত করবে,, এটা কথা ছিল হ্যা। (আশা)

------ওহ আসলে!(আমি)

------আসলে কি! কোনো কথা নয় কাল থেকে যদি এমন হয় রাত করে বাসায় ফিরো ত খবর আছে মনে থাকবে ত??(আশা)

------হুম থাকবে। (মাথা নিচু করে আমি)

------এখন যাও ফ্রেশ হয়ে খাবে চলো।(আশা)

------খেতে হবে?? (আমি)

------কি!বাইরে থেকে খেয়ে আসছো??ওকে খাবো না আজ আমি।(আশা)

------আরে না খাবো কিছু খেয়েছিলাম তাই খিদে ছিল না কিন্তু এখন খাবো চলো প্লিজ।(আমি)

------হুম চলো,,,(আশা)

------হুম ।(আমি)

তার পর দিব্বি করে খেতে হলো আমার,, বাসায় কেও নেই শুধু আমি আর আশা। আমি জানতাম 

আশা না খেয়েই বসে আছে আড্ডা ত শেষ হয় না।

তবুও আসতে হলো,,, আজকাল স্কুল ও খোলা নেই

তাই আর কি!ওহহো আপনাদের ত বলাই হয়নি 

আমি ফাহিম সবেমাত্র স্কুলে পড়ি।

(বরারবরের মতো আমি ই ফাহিম,,,, নিজের নাম ব্যবহার করার জন্য সরি,,,, আসলে পরিস্থিতির শিকার আমি,,, তাই নিজের নাম ই ব্যবহার করতে হয়,, নামের জন্য কেও গল্প ইগ্নোর করবেন না প্লিজ)

অন্যদিকে আশা কলেজের ফাস্ট ইয়ারে পড়ে বয়সের দিক থেকে আমার কয়কমাসের বড় কিন্তু ক্লাস অনুযায়ী ১ বছরের বড়। বড় ত বড়ই নাকি??

হুম আশা আমার সিনিয়ার বউ।কিন্তু খুব অল্প বয়সেই আমাদের বিয়েটা হয়। এইতো জাস্ট কয়ক

মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়ে যায় একটা কাল্পনিক

ঘটনার মধ্যে দিয়ে,,,,,।আশা আর আমার পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যেমে,,, হুম আপনারা ঠিক ধরেছেন আমাদের ভালোবাসা করেই বিয়েটা হয়।চলেন জেনে নেওয়া যাক,,,কিভাবে হলো সেটা,,,,,

কয়কমাস আগের ঘটনা,,, তখন এসএসসি পরিক্ষা

শেষ,,, আমি কিসের জেনো ছুটি কাটাচ্ছি সবে নিউ

টেনে পড়ি। আমি ই প্রথম আশাকে এসএমএস দেই,,,

প্রথমে আশা খুব শক্তভাবে কথা বললেও আমার ছোট ছোট কেয়ারিং খাওয়ার ঠিক সময় মতো খেয়াল রাখা এসব দেখে ভালো লেগে যায় আমার প্রতি,,,আমার ফিলটা কেমন ছিল সেটা আমি জানতাম না তবে এটা জানতাম আমার বেশ ভালোই

লাগতো আশার সাথে কথা বলতে, এইভাবে বেশ অনেকদিন চলছিল ভালই ছিল দিন গুলো

,, হঠাত একদিন,,,

------ফাহিম!(আশা)

------বলো??(আমি)

------একটা কথা ছিল??(আশা)

------হুম বলো কি কথা??(আমি)

------কিভাবে বলি??(আশা)

------কি এমন কথা বলো ত,,(আমি)

------আই লাভ ইউ সো মাচ।(আশা)

আমি কিছু রিপ্লাই দেওয়ার আগেই,,,,আবার এসএমএস দিলো,,,,

------সরি আসলে আমি বলতে চাইনি কিন্তু বলে দিলাম প্লিজ রাগ কর না আমি সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু প্রমিশ দাবি করব না প্লিজ ভুল বুঝনা আমায়।(আশা)

------আরে কামডাউন,,,,(আমি)

------হুম তুমি যদি চাও আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু ভুল বুঝনা আমাকে।(আশা)

------আরে আজব ত,,,ভালোবাস আমাকে??(আমি)

------হুম খুব।(আশা)

------শুধু ভালোবাসি বলেই চলে যাবে নাকি ভালোবাসা আদায় ও করবে?? (আমি)

------মানে??(আশা)

------মানে বুঝতে হবে আমি চললাম।(আমি)

------না থাকো প্লিজ।(আশা)

------ওকে।(আমি)

তার পর আমি অবাক হয়ে গেলাম,,,নিজেই পিক সেন্ট মেড়ে দিলো,,,

------কি হলো এটা??(আমি)

------বিশ্বাস করি তোমায় খুব তাই নিজে থেকেই দিলাম চাওয়ার দরকার নেই।(আশা)

------ওহ থ্যাংকিউ। (আমি)

------হুম ওয়েল্কাম।(আশা)

তার পর কথা কথায় হারিয়ে গেলাম দুজন কিছুদিন পর আমি,,, আমাদের কথা খুব ভালোভাবেই চলছিল

কিন্তু এখন ও আমি তাকে বলিনি আমিও তাকে ভালোবাসি,,,,আমি আশাকে বার বার বিভিন্ন অজুহাত দেখাতাম কিন্তু আমার যুক্তি গুলোর কোনো দাম ছিল না তার কাছে,,,নমুনা দেখবেন??

-----আশা,,, (আমি)

-----হ্যা বলো??(আশা)

-----আমাকে ভালোবাস তুমি তাই না??(আমি)

-----হুম এটা আবার বলতে হবে নাকি??(আশা)

-----কিন্তু আমাকে ত দেখোনি তুমি।(আমি)

-----দেখতে হবে না।আর প্রয়োজন ও মনে করিনা দেখে কি করব??(আশা)

-----আমি যদি বলি আমি দেখতে খারাপ।(আমি)

-----কোনো বেপার না তাও ভালোবাসি তোমাকেই আর তোমাকেই শুধু বাসবো। (আশা)

------আমি একদম কুচকুচে কালো দেখলেই ঘৃনা শুরু করে দিবে আমাকে নিয়ে।(আমি)

-----এই বলছিনা?? আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি

তোমার চেহারা কেমন সেটা দিয়ে আমি কি করব?তুমি যেমন ই হও আমি তোমাকেই ভালোবাসি আর তোমাকেই বাসবো বিশ্বাস কর। (আশা)

------কিন্তু আমি যে তোমার ছোট!(আমি)

------সেটাও কোনো ফ্যাক্ট না দু এক ক্লাস এখন ছোট কিন্তু কলেজে গেলে ঠিক হয়ে যাবে কারণ আমার পড়াশুনা অনেক দেরিতে শেষ হবে আর তুমি ত ডিপ্লোমা করবে তোমার পড়াশুনা অনেক আগেই শেষ হয়ে যাবে তাই বড় ছোট নিয়ে ভেবে কি হবে?এসব ভাবতে হবে না তোমাকে।(আশা)

------কিন্তু আমার মতো আউলা জাউলা ছেলের সাথে তোমার মানায় বলো??(আমি)

-----এই একদম চুপ এসব তোমার ভাবতে হবে না। (আশা)

------কিন্তু তোমার বাড়ি সেই পাবনা আমার সিরাজগঞ্জ কিভাবে হবে বলো ত??আর তাছাড়া তোমার পরিবার ও ত মেনে নিবেনা আমাকে (আমি)

-----এই আমার বাবা আমার সব ইচ্ছে পুরন করে ওকে আর তোমাকে চাইলে তোমাকেও এনে দিবে এইসব তোমার ভাবতে হবে না,,, আমি শুধু জানি আমি তোমাকে ভালোবাসি আর কোনো কথা না।(আশা)

----আচ্ছা এখন বাই পরে কথা হবে।(আমি)

----ওকে।(আশা)

হুম কোনোদিন ই আশার সাথে কথায় পাড়তাম না

প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর জেনো জানা আছে,,,,একদিন

------আশা।(আমি)

------হুম বলো,,,(আশা)

------কি বলবো?? আমি দেখতে খারাপ বলে আমাকে দেখার একদম ইচ্ছে নেই তোমার তাইনা?(আমি)

-----আরে না দেখতে ত চাই ই কিন্তু একটু ভয় হয় পিক চাইলে যদি রাগ কর তাই,,,(আশা)

-----এইনাও দেখো !(আমি)

-----এইটা তুমি সত্যি??(আশা)

------হুম যেমন ভাবে বলেছি তোমাকে আসলে ঠিক তেমন না আমি।(আমি)

-----এইনাকি তোমাকে দেখে পছন্দ হবে না??পাগল।(আশা)

-----হুম তাই ত,,,(আমি)

চলছিল এখান থেকে সম্পর্ক এর এক নতুন অগ্রযাত্রা ছোট ছোট স্বপ্ন ছিল তার সাথে মন্র কিছু

আশা আমাকে নিয়ে।আশার ইচ্ছে ছিল আমাদের

বিয়েটা জেনো খুব তাড়াতাড়ি ই হয় আমি সেটা শুনে

বার বার অবাক হতাম এই সময় বিয়ে??এসব শুধু

আমার ভাবনা হলেও কিভাবে কাল্পনিকভাবে ওর ইচ্ছেটা জেনো পুরন হয়্র গেলো।আমি কখনো ভাবিনি এটা সম্ভব,,, কিন্তু আজ আশা সত্যি আমার 

ঘরের বউ হয়ে গেলো,,, তার পর আর কি??আমার ও বাশ খাওয়া শুরু। আশা এমনিতে খুব শান্তশিষ্ট

ওর তুলনা হয়না তবে আমার দিকে মনে হয় অনেক

কঠর,,, আমার দায়িত্ব যে নিজের হাতে তুলে নিছে

মানুষ করেই ছাড়বে,,,, কিন্তু আমি কি মানুষ না??

হুম কিন্তু যজ্ঞতা সম্পন্ন করে তুলবে এটাউ ফ্যাক্ট।

আশাকে আমি ভয় পাইনা কিন্তু ওর ভালোবাসাটা 

আমি শ্রদ্ধা করি। যাই হোক,,,,বর্তমানে আশা যাক,,,,

খাওয়াদাওয়া ত সম্পন্ন হয়েছে দিব্বি করে খেয়ে আমি ফোনটা হাতে নিয়ে শুয়ে থেকে দিব্বি চ্যাটিং

মেড়ে যাচ্ছি,,,আশা কাজ শেরে ঘরে এসে দেখে আমার এই অবস্থা শুয়ে আছি।কিছু বললো না টেবিলে বসে বই খুলে বসবে এমন সময় আমার মেসেঞ্জারের আওয়াজ শুনলো ২বার এমন হলো

কিছু বললো না ৩ বারের বেলা উঠে আমার দিকে

হাল্কা রাগ মুখে তাকিয়ে কোমরে হাত দিয়ে আছে,,,

আমি সেটা দেখে ধিরে ধিরে উঠে বসলাম সুন্দর করে ফোনটা রেখে দিলাম অত:পর বই নিয়ে বসে

পড়লাম। কিন্তু আশা আজ কিছুই বলছেনা নিজের 

মতো পড়েই যাচ্ছে আজ আমাকে ভুলেও কোনো

কথা বলছেনা।আমি পড়লাম কিছু তার পর ১১:৩০

মিনিটে শুয়ে পড়লাম,,, আমি রোজ এই সময় ই ঘুমাই এর পর আর আমাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব না

আর বইয়ের পাতায় ত একদম ই না।কিন্তু আশা রোজ ১:৩০মি, থেকে ২:০০মি, পর্যন্ত পড়ে খুব পড়ুয়া। কিন্তু আজ কেমন জানি সেটা অন্যরকম লাগছে,,, আমি শুয়ে পরার সাথে সাথেই আশাও এলো,,,, দারিয়ে আছে,,,,

-----কি হয়েছে?? (আমি)

-----কিছুনা হাত সরাও।(আশা)

-----কেন??(আমি)

-----ঘুমাবো তাই।(আশা)

-----কিন্তু!(আমি)

-----কিন্তু কি??(আশা)

-----তুমি ত এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাও না। (আমি)

-----তাতে কি??আজ ঘুমাবো হাত সরাও।(আশা)

-----আচ্ছা আসো।(আমি)

আমি হাত সরিয়ে টানা হয়ে শুয়ে পড়লাম আর আশা বুকে মাথা রাখলো,,, আমি যেই একটু জড়িয়ে

নিবো ঠিক তখনি,,,

------জড়িয়ে ধরলে কেন??(আশা)

------কেন??আমি ত রোজ ই এইভাবে ধরি। (আমি)

------তুই জড়িয়ে ধরলি কেন??(আশা)

------আমি তুই!(আমি)

------কি। তোর বুকে ঘুমাই বলে তার সুযোগ নিবি?(আশা)

------আমি সুযোগ নিচ্ছি??কি হয়েছে আজ তোমার?এমন করছো কেন??এর আগে ত এমন করনি।(আমি)

-----হুম ঠিক তাই! এর আগে আমার সব কথা শুনতে না??(আশা)

-----হুম।(আমি)

-----আজ শুনছিলে??(আশা)

-----ওহ এই বেপার?? আচ্ছা এই কান ধরছি।এখন থেকে সব শুনবো প্রমিশ। (আমি)

-----ওকে ছেড়ে দিলাম এইবার এর পর জেনো এমন না হয়।(আশা)

------ওকে ডিয়ার।(আমি)

------হুম।চলো ঘুমাবো আজ অনেক কাজ করেছি বেশ ক্লান্ত তাই তাড়াতাড়ি ঘুমাবো খুব ঘুম পাচ্ছে। (আশা)

অত:পর ঘুমিয়ে গেলাম দুজন,,, আমি এক পিচ্ছি

আমার বুকে আর একজন। খুব জড়সড় হয়ে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা হুম এইটা আমার সিনিয়ার বউ।

শুধু বয়সেই সিনিয়ার কিন্তু দেখে মনে হবে দুজন

একই বয়সের কিউট একটা মেয়ে একদম শান্তশিষ্ট

অভিমানী হলেও খুব বেশি সময় লাগে না অভিমান ভাঙ্গাতে এই জন্য আশাকে আমার বেশ ভালো লাগে।অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে কখন যে

ঘুমিয়ে গেছি জানি না,,, ভোরে আশা আমাকে ডেকে

তুলে নিলো দুজন নামাজ শেরে নিলাম আসলে বৃষ্টির রাত তাই মসজিদে আর যাওয়া হলো না। বাসায় ই নামাজটা আমার পড়তে হলো তার পর আবার ঘুম।প্রায় ১১টার দিক উঠে ফ্রেশ হয়ে আশাকে খুজতে লাগলাম দেখলাম বেলকোনিতে বসে আছে,,, আসলে ওর বেলকোনিতে বসে থাকতে

বেশ ভালো লাগে।আমি পাশে বসলাম কিন্তু আশা

একবার ও আমার দিকে তাকালো না হয় ত বুঝতে পারেনি আমি আসছি,,,আমি হাত দিয়ে কাধে নাড়িয়ে বললাম।

-----কি কর বাবু??(আমি)

------ঘুম হলো তাহলে??(অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললো)

-----হুম কেন??(আমি)

-----কয়টা বাজে এখন??(আমার দিকে ঘুরে)

আমি ঘড়িতে তাকিয়ে আর কিছু বলছিনা।

------কয়টা বাজে??(আশা)

------চলো খাবো।(আমি)

------আমার খিদে নেই সব রাখা আছে গিয়ে খেয়ে নাও।(আশা)

------আমি খাবো না তাহলে।(আমি)

------খাবে না কেন??(আশা)

------কারণ আমার বউটা যে না খেয়ে খিদে অবস্থায় বসে আছে তাকে ফেলে খাওয়া যায়??(আমি)

------কে বলছে আমি না খেয়ে??এই ত চা খাইছি।(আশা)

------উঠোনা এই চায়ে কি হয়?? (আমি)

------না উঠবোনা খাবো ও না।(আশা)

------ওকে উঠতে হবে আমি ই তুলছি।(আমি)

------এই না কোলে নিবে না আমাকে।(আশা)

-------তোমাকে বলে বলে নিতে হবে নাকি??(আমি)

আমি কোলে করে নিয়ে টেবিলের একটা চেয়ারে বসে দিলাম তার পর একটা প্ল্যাটে ভাত তরকারি নিয়ে,,,,, মুখের সামনে ধরলাম

-----খাও। (আমি)

-----হুম। (আশা)

আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আর অল্প অল্প করে খাচ্ছে।

-----ফাহিম!(আশা)

------বলো??(আমি)

-------জানো মাঝে মাঝে তোমাকে না আমার মনে হয় তুমি অনেক বড়। একদম ই মনে হয়না তুমি ছোট।(আশা)

-----ওহ তাই??(আমি)

-----হুম সত্যি। এই তুমি খাবে না??(আশা)

-----না আমার বউ খাইছে ত তাতেই আমার হয়ে গেছে।(আমি)

-----কি বলো??আমার খেলে কি তোমার পেটে যাবে নাকি??এই নাও হা কর??(আশা)

-----হুম। (আমি)

-----সত্যি তোমাকে এতো এতো ভালোবাসা যায় (আশা)

----আর আমার থেকে ভালোবাসা পাওয়া যায়না বুঝি??(আমি)

----কি বলো পাওয়া যায় না মানে?? তুমি আমার এতো খেয়াল রাখো আমার অভিমান ভাঙ্গাতে পারো

আসলে কি জানো তোমার উপর অভিমান করে থাকাই যায়না।(আশা)

----বুঝলাম বাবু কিন্তু খাওয়া শেষ কর তার পর না হয় কথা বলি??(আমি)

-----হুম তাড়াতাড়ি করে দাও,, আর তুমি হা কর !(আশা)

----আমার খেতে হবেনা ত,,,(আমি)

----খেতে হবেনা বললেই হলো??ওকে তুমি না খেলে আমার ও খাওয়া হয়ে গেছে উঠলাম আমি।(আশা)

----আচ্ছা খাচ্ছি ত আমার সোনা উঠে না খাও তুমি,,

----হুম সেটা না হয় হলো কিন্তু খাওয়ার পর কি করা যায় বলো ত??(আশা)

----তুমি যেটা বলবে (আমি)

----ওকে ওকে আগে খাওয়া শেষ হোক,,,তার পর বলছি।

আজকের দিনটা কি কি করে কাটিয়ে দিলাম জানিনা,, রাতে আশাকে আবার বুকে নিয়ে ঘুমাচ্ছি আমি,,,আমার সিনিয়ার বউ ঠিকি কিন্তু এই পিচ্ছির বুকে মাথা না রাখলে ঘুমায় না পরদিন সকালে খাওয়া দাওয়া শেরে,,, কলেজ খুলেছে আশার তাই ছেড়ে আসতে গেলাম আমি,,আমি কখনো আশাকে নিয়ে যায়নি কলেজে আজ কাজ করতে করতে অনেকটা দেড়ি হয়ে গেছে তাই আশাকে ছেড়ে আসতে আমার ই যেতে হলো,,,আশাকে নামিয়ে দিতেই কয়কজন ফ্রেন্ডস আসলো,,

----কিরে আশা ছেলেটা কে?? তোর ছোট ভাই নাকি?

----এক্সকিউজমি,,, ও আমার ছোট ভাইনা আমার বিয়ে করা বর ওকে।(আশা)

-----কি বলছিস এটা তোর বর??এতো বাচ্ছা ছেলে

এর সাথে তোর বিয়ে হলো স্ট্রেঞ্জ,,, আমি বিশ্বাস করিনা। তুই নিশ্চই মজা করছিস তাইনা??

-----ফাহিম! (আশা)

-----হুম।(আমি)

-----বাইক থেকে নামো !(আশা)

-----না মানে কেন??(আমি ইতস্তত গলায়)

-----নামতে বলছি মানে মানে করতে হবেনা। (আশা)

-----আচ্ছা!(আমি বাইক থেকে নামলাম)

-----তরা কি জেনো বলছিলি,, বিশ্বাস হয়না ফাহিম আমার বর তাই না দারা এখন ই বিশ্বাস করাচ্ছি,,,

"কথাটা বলেই আমার কাছে এসে মাথাটা ধরে টান দিয়ে মুখের কাছে মুখ নিয়ে আমার জবান জেনো

বন্ধ করে দিলো,,,হ্যা লিপ কিস করছে আমাকে''

বেশ অনেক্ষন পর আমাকে ছেড়ে দিলো,,,তারপর নিজের ঠোট মুছে,,,

----ফাহিম !(আশা)

----হ্যা!(আমি)

----চলো বাসায় যাবো!(আশা)

----কিন্তু তোমার না কলেজ আছে!(আমি)

----আজ কলেজে তেমন ক্লাস নেই,, বাড়িতে চলো স্পেশাল ক্লাস আছে!(আশা)

----কিন্তু!(আমি)

----কোনো কিন্তু নয়,, চুপচাপ চলো!(আশা)

আমি অবাক হচ্ছি আশা আমাকে ধমক দিয়ে কথা

বললো আজ??এতো শান্তশিষ্ট মেয়ে আজ এই রুপ?

আমি আশাকে আজ সত্যি অনেক ভয় পেয়ে গেলাম জেনো,,অনেক কথাই মনে বাচ্ছে,, চুপচাপ বাইক নিয়ে চলছি কিন্তু কেমন জানি পিঠটা ভারী আর ভেজা অনুভূত হচ্ছি,,বাসায় এসে গেলাম !

"নামো বাড়ি এসে গেছি''

''ওহ ওকে ''

''এই তোমার চোখ লাল আর কাজল গুলো এলোমেলো কেন??

''কই না ত''

''কাঁদছিলে কেন?পাগলি''

(চোখ গুলো মুছে দিয়ে বলছি)

''বাহ রে কাঁদবো না?কি সব বলছিল ওরা শুনোনি?

(কাঁদতে কাঁদতে বলছে)

''কি এমন বলছে শুনি?যে সারা রাস্তা কাঁদতে কাঁদত আসলে''

''ফাহিম"আই লাভ ইউ সো মাচ বেবি"

(বুকে আছড়ে পড়ল,, আবার ও কাঁদতে লাগলো)

''ভালোবাস সেটা ত আমি জানি,, কিন্তু কাঁদছ কেন?কাদার কি এমন হলো''

''জানিনা,, আমাকে জড়িয়ে ধরো''

''পাগলি আমার''এইবার খুশি?ত''কিন্তু আজ আমার শান্তশিষ্ট বউটার জেনো ভিন্নরুপ দেখলাম ''

(শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলছি)

''হুম,,তোমাকে নিয়ে কিছু বললে আমার মাথা ঠিক থাকে না তাই ত ওমন করলাম'' (আশা)

''তাই বলে এতো পরিবর্তন??কিন্তু আমার উপর ত একদম ই রাগ দেখাও না '' (আমি)

''বাহ রে ভালোবাসিনা তোমাকে??তাহলে রাগ কেন দেখাবো??পাগলটা '' (আশা)

''ওহ বাবা " আমাকে ভালোবাস তাই রাগ দেখাও না"

খুব মজার বেপার ত '' (আমি)

''হুম ভালো কথা চলো ভিতরে চলো'' (আশা)

''ওকে ডিয়ার'' (আমি)

আপনারা আর কি??রাতে চা নাস্তা খাবেন না??😁

''আশা" আমি সত্যি কিন্তু বিশ্বাস করতে পারছিনা এটা তুমি আমার সেই আশা?যে সরি বললে গলে যায় আজ সেই আশার এমন ভয়ানক রুপ"সত্যি এখনও আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা" 

(ভিতরে যাচ্ছি আর কথা বলছি)

"দেখো আমাকে নিয়ে যদি কিছু বলতো আমার কিছুই যায় আসেনা কিন্তু তোমাকে নিয়ে কিছু বলবে

আর আমি ছেড়ে দিবো তাই আবার হয়??কোনো দিন ই সহ্য করতে পাড়ব না আমি'' (আশা)

"এতো ভালোবাস আমাকে? (আমি)

''নিজের থেকেও বেশি'' (আশা)

''তবে তুমি যে বললে আজ ক্লাস বাড়িতে স্পেশাল ক্লাস,,,বাড়িতে আবার কিসের ক্লাস? (আমি)

"এমনি বলেছি,, আসলে আজ প্রথমেই মুড নষ্ট হয়ে গেছে " তাই কলেজে একদম ই ভালো লাগতো না,,তাই ত চলে আসলাম" (আশা)

"তাও ভালো,, আমি ত ভাবছিলাম" (আমি)

''এই কি ভাবছিলে??হুম" 

(দারিয়ে গেলো কোমরে হাত দিয়ে আশা)

''আরে কিছুনা চলো " (আমি)

"কি বড় হওয়ার ইচ্ছে জাগছে নাকি?বড় হবে"চলো তাহলে কেমন'' (আশা)

"কি সব বলো না তুমি,, আসো ফ্রেশ হয়ে নেই'' (আমি)

''হুম চলো'' (আশা)

অত:পর দুজন ফ্রেশ হয়ে বেলকোনিতে বসে রইলাম

পাশাপাশি হাতে হাত রেখে বসে আছি দুজন চেয়ার

চেপে,,,

''আচ্ছা আশা " (আমি)

''হ্যা বলো'' (আশা)

''কিছুনা এখানে মাথা রাখো '' (আমি)

''ওহ এই বেপার ওকে ''

(আশা সুন্দর করে কাধে মাথা রাখলো)

বেশ অনেকটা সময় দুজন নিরালায় বসে রইলাম

কিছুক্ষণ পর ডাক পড়ল আশার,,,,

''আশা মা আমার কোথায়??আশা'' (মায়ের গলা)

''কে ডাকছে বলো ত??মা নাকি?যাও দেখবে চলো''

(আশা কথাটা বলেই ছুট দিলো)

''কি মেয়ের বাড়ির আদর খাওয়া হলো তোমার?হুম''

(আশা)

''হুম হইলো আর কি'' (মা)

''আচ্ছা আসো ভিতরে'' 

(আশা ব্যাগটা তুলে নিলো এবং ভিতরে আসতে লাগলো)

''হুম সেটা না হয় হলো কিন্তু দরজা খোলা কেন ছিল রে?হুস থাকে না তোদের? (মা)

''আর বলো না তোমার ছেলের কির্তী তখন বেড়িয়ে গেলো আসার সময় আর দরজা আটকায়নি।বলো ত এসব কি এখন মানায় সে কি বড় হচ্ছে না??(আশা)

''আমি কি করলাম''

(আমি কাছে এসেই জবাব দিলাম)

''আচ্ছা বাদ দে আগে রেস্ট নেই কিছুটা পরে কথা বলবো ক্ষন তোরা ঘরে যা'' (মা)

''আরে কি বলো আগে ছেলেকে কিছু একটা শাস্তি ত দিবা নাকি??তানা ওকে ওকে'' (আশা)

''ছেলেকে আবার কি শাস্তি দিবো?? মনে নেই হয় ত। এখন মনে না থাকলে কি করার'' (মা)

'' হুম সেটা ঠিক'' (আশা)

※এদিকে আমি রেগে মেগে চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে

মেজাজ ত পুরো গরম।আমি কি করলাম?তাও আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে শুধু শুধু মিচকা শয়তানের বউ থুক্কু কি জেনো কয় নানী একটা⁉

''আচ্ছা যা যা তোরা ঘরে যা " (মা)

''আচ্ছা মা" (আশা)

আমি দারিয়ে আছি দেখে,,, ''কি তুই যাস না কেন?

তোকে কি আলাদা করে বলতে হবে? সেদিন গেছে,,

যে আত্মিয় বাড়ি থেকে আসার সময় কেক নিয়ে আসবো '' (মা)

''আমি চাইছি নাকি?? (আমি)

''তাহলে যাস না কেন??চেয়ে কি দেখিস? (মা)

''কিছু না যাচ্ছি'' 

(বলে মাথাটা নিচু করে যাচ্ছি)

''মেজাজটা গরম হয়ে আছে মিথ্যা মিথ্যা আমাকে 

ফাঁসানো না মানে মিথ্যা বলা আমার নামে আমি কোথায় দরজা খুলে রাখলাম নিজে খুলে রাখলো আমার দোষ এখন'' (নিজে নিজে ভাবছি)

ঘরে ঢুকেই আশাকে দেখতে পেয়ে এগুতে লাগলাম,,

''কি মিষ্টার রাগ মুখে আমার দিক আসছেন কেন''

(কথাটা বলে হাল্কা পিছুতে লাগলো আশা)

'''(আমি কিছুই উত্তর না দিয়ে এগুতে লাগলাম)'''

''কি হলো আমার দিক আসছো কেন??

(আশা পিছুতে পিছুতে দেওয়ালে আটকে গেছে)

"(আমি কিছুই না বলে সরাসরি দেওয়ালে চেপে ধরলাম,,হাত দুটো শক্ত করে ধরব আছি দেওয়ালে)'

''কি হয়েছে?এমন ভাবে ধরে আছো কেন??'' 

(আশা একটু নির্বাক হয়ে)

''আমাকে বকা খাওয়ানোর চেষ্টা??হুম''এখন কোথায়

পালাবে??হুম আর ও বানিয়ে বানিয়ে বলো'' (আমি)

''আরে আমি ত মজা করছিলাম,,তোমাকে মা বকবেনা আমি জানি ত সেটা''ছেড়ে দাও প্লিজ''

(আশা নিষ্পাপ চোখে চেয়ে আছে)

''ওকে ''

(ছেড়ে দিলাম)

''উম্মাহ বাবু''

(গালে একটা বসিয়ে দিলো ডেউ মেড়ে )

''এটা কি হলো??'' (আমি)

''কেন বাবু চুমো দিলাম'' (আশা)

''ওহ তাই?ওকে আমি দেই তাহলে এখন? (আমি)

"না থাক পরে দিও '' (আশা)

''ওকে '' (আমি)

''এই তুমি এতো ভালো কেন??যেটা বলি সেটাই উত্তরে দাও ওকে '' (আশা)

''কে বলছে আমি ভালো''

''এই আমার বর কে খারাপ বললে মেড়ে দিবো কিন্তু''

(আমার কলার ধরে)

''উরিম্মা''

''কি হয়েছে''

''আন্নের বর কে গো আপামনি''

''এই আমাকে আপামনি বলা তোরে ত আজ আমি''

''আমারে কি??তোমার বর কে খারাপ বলছি তাই আমার কলার ধরছো যদি তোমারে নাম ধরে ডাকি তাহলে ত বেয়াদব বলবা আর ছাড়বা নাকি আমাকে''তাই ত আপামনি কইলাম''

''এই বদমাইশ,,, আমি কে হই তোমার''

''কি জানি কইতে পাড়ি না''

''কি বললে??হ্যা''

(আশা চোখ গুলো বড় বড় বানিয়ে)

''কি হলো গো''

''কিছুনা যাও আমাকে ছুবেনা আমাকে আপামনি বলা''

''আরে আমি ত''

''কি বলবে হ্যা কি বলার আছে''দারাও আমি মার কাছে যাচ্ছি''

''কেন''

(আমি হাতটা ধরে)

''ছাড়ো আমি মাকে সব বলবো''

''এই কি বলবে??না''

''ছাড়ো আমাকে''

''না''

''আমাকে আপামনি বলা??আমি আজ তোমাকে তোমার মাকে দিয়েই মার খাওয়াবো আমি''

(কথাটা বলেই আশা ঝ্যাংটি মেড়ে চলে গেলো)

আমি ত জানি আজ কপালে সত্যি কিছু আছে আমার। জানি মা আমাকে মাড়বে না কারণ আদরের পোলা বলে কথা। কিন্তু একি মায়ের হাত্র ব্যাত কেন??

''মা কি হয়েছে??ব্যাত কেন''

(শান্তভাবে আমি)

''ব্যাত কেন??দাড়া দেখাচ্ছি কেন ব্যাত"

বলেই উত্তম মাধ্যেম শুরু হয়ে গেলো ওমা একি মাইর আমাকে জিবনের শ্রেষ্ট মাইর খাইলাম ইশ কত মাইর খাইছি এমন খাইনি ওহ হো থুক্কু আজ ই প্রথম আমাকে মা মারলো কিন্তু এইটা ভাবতেই পারিনি আমাকে এইভাবে মাড়বে। মাইর খাওয়া পইড়া আছি মেঝের এক পাশে,, কোনো কথা বলছিনা চুপচাপ বসে আছি।জেনো বোবা হয়ে গেছি

মাইর খাওয়ার সময় ও কিছু বলিনি মেড়ে চলে গেলো,,,

"শুধু মা বলছিল বদমাইশি এতো টা ফাজলামি খালি তাইনা??বউকে আপামনি বলা??

তোরে আজ দেখ কি করি''

বাকিটা ত আর বলার দরকার নেই মনে হয়।কিছুক্ষণ পর আসলো আশা দেখলাম মুখটা কেমন জানি বুঝাই যাচ্ছে কান্নাকাটি করে আমাকে মাইরটা খাওয়াই দিলো।যাগ গে কোনো কথা বলবোই না

আর ওর সাথে"

আশা আসলো কিছুটা আমার দিকে তাকিয়ে দেখলো তারপর আমার কাছে এসে বসলো।

আমি মুখটা ফিরিয়ে নিলাম একটু অভিমানী হয়েই।

তারপর আমার হাত ধরতেই,,,

''উহহ"

(আওয়াহ করলাম)

''এই কি হয়েছে দেখি রক্ত কেন''

(আশা হাতটা ধরে)

আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না কখন হাত ফেটে গেছে। আসলে প্রথম বারিটা মারতেই আমি

হাত দিয়েছিলাম তখন ই লেগে যায় ব্যথা পাই ঠিকি

কিন্তু বুঝতে পারিনি ফেটে গেছে হাটটা,, তাই ত ভাবি

শরির দূর্বল লাগে কেন আমার।আসলে রক্ত অনেকটাই বেড়িয়ে গেছে ত তাই''

''হাত ছাড়ো আমার''

''না অনেকটা রক্ত বেড়িয়ে গেছে দাড়াও আমি সেভলন নিয়ে আসি''

''কোনো দরকার নেই থাক এমন ই''

[আশা ঔষধ নিয়ে এসে] "দেখি হাতটা''

''না''

''প্লিজ''

আশার চোখের মায়াবীভাবতা দেখে হাত এগিয়ে দিলাম আর কোনো কিছু বললাম না।আশা সুন্দর করে ওয়াশ করে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিলো।তারপর 

বাইরে চলে গেলো,,,দুধ গরম করতে লাগলো রান্না ঘরে।

মা সেইটা দেখে,,, কি হয়েছে দুধ দিয়ে এখন কি করবি''

''না মানে মা আসলে তোমার ছেলেকে খাওয়াবো''

''অনেক মাইর খাইছে পেট ভরাই আছে দুধ লাগবে না ওর''

''না মানে নিয়ে যাইনা''

''আচ্ছা কিন্তু এতো দরদ ভালো না''

''আমি মোটেও দরদ দেখাচ্ছিনা সারাদিন ত তুমিই ছেলেকে নিয়ে নাচো কি করছো দেখছো একবার ও''

(বেশ রেগে)

''কিরে মা তোর এই রুপ''

''হুম এই রুপ ই আসছি এখন''

মা আশার এরকম ব্যবহার দেখে একটু অবাক ই হলো আসলে আশা ত এমন ধরনের না একদম নরম স্বভাবের কিন্তু এতটা পরিবর্তন।যাই হোক

আশা দুধ গ্লাসে করে নিয়ে আসলো ঘরে।আমি ওইভাবেই পড়ে আছি।

''নাও খেয়ে নাও''

(মুখের সামনে ধরে)

''না''

''নাও খেয়ে নাও''

''না''

''এই খাবিনা কেন??একদম মেড়ে দিবো চুপচাপ খেয়ে নিবি না হলে গরম দুধ তোর মাথায় ঢালবো''

(বেশ চোটে উঠে)

আশার এরকম কথায় আর ওর দিকে তাকিয়ে বেশ ভয় পেয়ে খেয়ে নিলাম।কি আজব একটা বেপারনা?

শান্তশিষ্ট বউ আমার??কিন্তু ব্যবহার তার প্রতিরুপ দেখতেছি আমি।আজ সত্যি ভয়েই আছি আমি।

কিছুক্ষণ পর আশা গ্লাসটা টেবিলে রেখে দিয়ে আমার কাধের কাছ হাত দিয়ে উঠানোর চেষ্টা করলো,,,''উঠো বিছানায় শুবে এখন''

আমি কিছু বললাম না চুপচাপ শুয়ে দিলো আমাকে

আর আমি শুয়ে পড়লাম জানিনা কেন এতো হঠাত

বউকে ভয় পেতে লাগলাম আমি তাও আবার আজই

প্রথম।মা যখন মাড়ল একটা উহহ শব্দ ও করিনি

উলটা মার চোখেই পানি দেখছিলাম। এটা মনে হলো

তাই,,,

''মা কোথায়''

''বাইরে বসে আছে''

''ওহ আচ্ছা''

(কিন্তু আমি দরজার কাছে দেখলাম দারিয়ে আছে)

''হুম তুমি থাকো আমি খাবার নিয়ে আসি''

''লাগবে না আমার খিদে নেই''

''দেখো রাত হয়ে গেছে থাকো আমি আসছি''

আমি কিছুই বললাম না আর কারণ এই প্রথম আমি

আশাকে ভয় পাচ্ছি জানিনা এমনিতে আমার উপর

দূর্বল তাই আমাকে নিয়ে কিছুই শুনতে পারেনা তারউপর এসব হয়ে গেছে এখন কিছু মানা করলে নির্ঘাত আমি মাড়া পড়ব তার হাতে,,,

কিছুক্ষণ এর মধ্যে আশা থালা হাতে আসলো।আশা খাবারের থালাটা রেখে পানি নিচ্ছিল আর আমি খাবারে হাত দিতেই ঝোলের ছোঁয়া লাগতেই উহহ

বলে উঠলাম,,,, আশা সেইটা দেখে রাগ চোখে কোমড়ে হাত মেড়ে দারিয়ে কিছুটা সময় তারপর

কাছে এসে,,,,

''এই তোর প্রব্লেম কি''

''কেন''

(আমি অবাক হয়ে)

''আবার বলিস কেন??তোকে আমি খাবারে হাত দিতে বলেছি???এই হাত দিয়ে তুই খেতে পারবি??হ্যা

''ত কিভাবে খাবো''

''আর একটা কথা বললে জানে মেড়ে দিবো।তোর হাত দুইটাই নেই তাতে কি??তোর বউ নেই''চুপচাপ থাক বসে একটা কথা বলবি ত খবর আছে''

''না মানে''

(আশার দিক তাকিয়ে আর কিছু বললাম না ভয়ে)

''কি??কোনো কথা বলবে না চুপচাপ খাও''

(ভাত মাখাচ্ছে আর বলছে)

''কিন্তু আমি ত এতোটা খেতে পাড়ব না''

(বলেই নিচের দিক তাকিয়ে)

[আমার দিকে খানিক্ষণ তাকিয়ে]''কোনো বেপারনা আমি আছিনা তুমি খেতে থাকো আগে''

''না মানে একসাথেই খাই''

তার দিকে তাকাতে লাগলাম ভয়ে ভয়ে কথা বলেই।আসলে জানিনা আজ কেন এতো ভয় পাচ্ছি।

''ওকে আগে তুমি''

মুচকি হাসি দিয়ে,,আমাকে খাওয়াই দিয়ে।জানিনা তবে এতো রাগ মুখের মাঝেও তার এই হাসিটা সকল

কিছুকে কিভাবে হার মানাচ্ছে।বেশ লাগছে এখন

মনে হচ্ছে আমার শান্তবউটা আবার নিজের আসল

চেহারায় ফিরে আসছে।এখন মনে হচ্ছে এতক্ষণ

তার ভূত চাপছিল সেইটা এখন নেমে গেছে।সে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছি আর আমি তার ই হাত দিয়ে তাকে খাওয়াইয়া দিচ্ছি বেশ ভালো লাগছে কেন।

যদিওবা ভয়টা এখন ও কাটেনি সম্পুর্ন,, কিন্তু এটা

বুঝলাম আমাকে নিয়ে যদি আমি কিছু বলি তাহলে

আমাকেই মেড়ে দিবে। আর বউয়ের প্রতিরুপ

তখন দেখা যাবে।বেশ ভালোভাবেই খাওয়াদাওয়া সারলাম,,আশা বাইরে গিয়ে ঘুরে আসলো রাত যদিওবা ওতটা হয়নি তবুও আজ আমাকে গুছিয়ে দিলো জেনো আমি ঘুমাই তারপর সে পড়তে বসলো।

বেশ কিছুক্ষণ এইভাবেই কাটলো কিন্তু আমি ঠিক নেই এখন জ্বরে হাত পা কাঁপছে অনেকটা তাই আশা এসব খেয়াল করে কাথা জড়িয়ে দিলো আমাকে।কিছুটা সময় ত ঠিক হলো কিন্তু তবুও কিছুতেই কিছু হলো না বার বার এমন কান্ড দেখে

আশা বই রেখে দিলো তারপর উঠে আসলো খাটে

কাথাটা একটু তুলে ভিতরে চলে আসলো।আশার অভ্যাস মানেই এক বালিশে ঘুমানো তাই বালিশ একটাই থাকে আমাদের।আমার বুকের পাশাপাশি

মাথাটা রেখে কাথা জড়িয়ে নিলো। তারপর আমার

কাপাকাপি মোটামোটি শান্ত হলো,,,আর বেশ ওম অনুভব হলাম।

সকালে আমার ঘুম ভাঙতেই দেখলাম বউটা ঘুমিয়ে আছে। জেনো মিশে আছে আমার মাঝেই,,বেশ কিছুক্ষণ দেখলাম তার মায়াবি মুখটা।কত সুন্দর করে ঘুমিয়ে আছে একটা বাচ্ছা মেয়ে জেনো এতো

কিউট লাগছে। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিবো ভেবেই যেই মাথায় হাত দিলাম ওম্নি উঠে গেলো আশা।থাক আর হাত দিয়ে কাজ নেই,,,

''কি করছিলে''

''আসলে হাত বুলাবো মাথায় এই জন্য হাত লাগাচ্ছিলাম''

''ওহ এইবেপার,,, জ্বর কমছে তোমার??কই দেখি হ্যা একদম নেই তার মানে রাতের জ্বর ই ছিল''

(আশা আমার গালে কপালে হাত দিয়ে)

''আমার জ্বর হইছিল নাকি''

''হুম অনেকটাই । তা হাত নাকি বুলাবে??দাও হাত বুলিয়ে''

(মাথা এগিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো আবারও)

''আরে না সেইভাবে না আসলে ঘুমাচ্ছিলে তাই ইচ্ছে করছিল আর কি''

''হুম ইচ্ছে করছে দাও হাত বুলিয়ে আমি কি মানা করছি নাকি''

''না থাক''তুমি ত এখন জেগে''

''তাতে কি??তোমার হাত বোলানো নিয়ে কথা হাত বোলাও এতো কথা বলো কেন??

''কিন্তু আমি ত পারিনা''

''এই তোমার এই কথা একটা পারিনা এইজন্য কাছে শুয়ে থেকেও কিছু হয়না''

''মানে''

''মানে বুঝতে হবেনা''

''ওহ এইবার বুঝছি,,, চাও তুমি??এইটা বলো''

''হুম,,, না''

''হুম নাকি না''

''কিছুনা আমি গেলাম কাজ আছে মেলা''

''যাবে মানে বললেই হলো''

(হাত ধরলাম টেনে)

''কেন কি করবে হুম''

''দেখবে''

(একটান মেড়ে বুকে নিলাম''

''কি''

(আমার চোখের দিকে তাকিয়ে)

''ইচ্ছে করছে যে আমার''

(আমি বুক ঘষছি আমার হাত দিয়ে জেনো কত অসহায় আমি)

''কিসের ইচ্ছে করছে আমার বাবুটার''

(নাকে আঙ্গুল দিয়ে আমার)

''বলবো না''করে দেখাবো''

''তাই?? তা রাত যে পাড় হয়ে গেছে''

''তাতে রাত করে নিবো''

''কিভাবে''

''এ দাড়াও দেখাচ্ছি''

(বলেই লাইটটা অফ করে নিলাম)

**এহহে এখন কি হবে কিছুই ত দেখা যাচ্ছে না??

তাইলে?? কি করা যায়??বলেন ত??

part_3


কিছুটা দুষ্টুমি শুরু করলাম গসল খানায় ঢুকে আজ 

দুজন একই সাথে গসল করতে ঢুকেছি। আমি বার

বার আশাকে পানি ছিটিয়ে দিচ্ছি আর দুষ্টুমি করছি।

অবশেষে গসল শেরে বেড় হলাম,,,কিছুক্ষণ পর

এখন ত স্বাভাবিক ভাবেই পোশাক নিয়ে বসে আছি,,

''কি করা যায় বলো ত বাড়িতে এরকম বোরিং লাগে না তোমা'' (আমি আশার হাতটা ধরে)

''এমন একটা দুষ্ট বর থাকতে বোরিং লাগবে কখনো''

"আসো"

(আমি সুন্দর করে ধরলাম আশাকে,,,আশা দারিয়ে আর আমি খাটে বসে)

"আবার কি"

"কিছুনা থাকো না"

''বাহ বাবা এতো ভালোবাসা??কই আগে ত দেখিনি''

''হুম এখন থেকে রোজ দেখবে ''

''হইছে তাহলে,,,আচ্ছা খাবে চলো"

''তুমি থাকতে আবার খাবারের কি দরকার''

''আমাকে খেয়ে পেট ভরাবে নাকি''

(আশা হা করে তাকিয়ে)

''না মন ভরাবো''

''তুমি যে কি বলো না,,, আচ্ছা থাকো আমি এখানেই খাবার নিয়ে আসি কেমন"

(আশা যাচ্ছে ঘুরে)

''আরে ধুর তুমি থাকো খাবার লাগবে না''

(আমি হাতটা ধরে)

''না না বেপার সেপার ত ভালো মনে হচ্ছে না,,,বাচ্ছা ছেলেটা বড় হচ্ছে নাকি??বিয়ে করাতে হবে। এয়্য মা কি বলি''আমি ই ত তোমার ইয়ে''

(আশা লজ্জায় হেসে দিলো)

''আমার কি সোনা"

(আমি কাছে নিলাম আর আশা মুখ হাত দিয়ে ঢেকে আছে)

''কিছুনা''

(আরও জেনো শরমে মুখ লুকাচ্ছা হাত দিয়ে)

''এই এদিকে দেখো''

''না''

(তেমন ভাবেই মুখ লুকিয়ে আছে)

''দাড়াও আমি দেখছি''

(কথাটা বলেই দাঁড়িয়ে গেলাম আর হাত দিয়ে মুখ

দেখার চেষ্টা করছি)

''আশা চুপ"

''কি হলো দেখি''

[হাতটা শরিয়ে আশা]''কি দেখবা''

''তোমাকে''

''হুম তাই''তা আমাক্ব দেখার কি আছে ''

''অনেক কিছু বুঝবা না তুমি দেখতে দাও"

''ওহ বাবা আমিই বুঝবো না''ওকে দেখো''

''আমি চেয়ে আছি''

''এই যে হলো দেখা''

(আঙ্গুল এর শব্দ করলো)

''না''

''ওকে পরে দেইখো,, এখন বসো এখানে আমি খাবার নিয়ে আসি''

আমাকে বসিয়ে রেখে চলে গেলো আশা বাইরে গেলো কিছুক্ষণ পর তার আগমন ঘটলো খাবার হাতে।

''এই নাও খেয়ে নাও,,,আহহ রাতের মতো ভুল করবে না একদম মাড়ব কিন্তু। আমি হাত ধুয়ে নিচ্ছি আমি ই খাইয়ে দিবো একদম হাত লাগাবানা''

''কিন্তু আমি ত খেতে পাড়ব দেখো অনেকটাই ঠিক হয়ে গেছে হাত''

''ওহ তাই নাকি??নাকি বউ এর হাতে খেতে ভালো লাগে না??সেটা বললেই হয়''

''আরে আমি সেটা কখন বললাম''

''মনে ত হচ্ছে''

''আরে না আমার ত মনে হয়''

''কি মনে হয়''হুম"

(আমার দিকে অবাক চোখে)

''মনে হয় এইভাবে খাওয়ার জন্য রোজ ই হাত কাটি বা নিজের হাত ভাঙ্গি''

''ওহ তাই বুঝি??এই নাও হা কর। আর এসব বলবে না ওকে??তোমার কিছু হলে আমার মাথা ঠিক থাকে না আর মন মেজাজ ও সেটা জানো না??আর জানবেই কিভাবে আমাকে ত ভালোইবাস না তুমি''

(অভিমানী গলায়)

''সত্যি আমি ভালোবাসিনা''

(আমি ইতস্তত ভাবে)

''না''

(একটু তাড়াতাড়ি বললো)

''সত্যি''

(আমি একদম শান্ত কন্ঠে)

''না''

''ওকে যা খাবোই না তোর খাওয়া''

(হাত দিয়ে ধাক্কা মেড়ে থালা ফেলে দিলাম)

[আশা দারিয়ে গিয়ে বেশ রেগে মেগে] "ঠাসস,,ঠাসস

দুইটা মাড়ল আমাকে,, আমি গাল ধরে দাঁড়িয়ে আছি

[আশা মাথা আমার কাছে এসে আমার গাল ধরার চেষ্টা করে শান্ত গলায়]''ফাহিম,,, প্লিজ আমি মাড়তে চাইনি"

[আমি সরিয়ে দিয়ে গালে হাত দিয়ে খাটে বসে পড়লাম ]

[আশা পাশে বসে গালে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে]

''ফাহিম সত্যি আমি মাড়তে চাইনি রাগ করনা"

[আমি সরিয়ে দিচ্ছি বার বার কিছু বলছিনা]

''ফাহিম,,, তুমি খাবার ফেলে দিছো এই জন্য মাড়ছি তোমাকে প্লিজ রাগ করনা প্লিজ''

(অনেকটা কান্নায় মাতওয়ারা হয়ে)

উঠে চলে আসলাম বাইরে সারাটাদিন কোনো একভাবে বন্ধুদের সাথে কাটালাম। কাওকে কিছুই

বলিনি আর বুঝতেও দেইনি যদিও কয়কজন জিজ্ঞেস করেছে গালে এরকম লাল কেন??আমি একটা এমন সেমন বলে চালিয়ে দিছি।রাত হতে লাগলো সবাই চলে গেছে কিন্তু আমি ওইভাবেই বসে আছি।কিছুটা অন্ধকার হচ্ছে বসে থাকতে থাকতে দেখি আশা পিছনে,,,,হাত বাড়িয়ে কিছু বলবে এমন

তখন উঠে পাশ কাটিয়ে চলে আসলাম বাড়িতে ।

বাড়িও খুব বেশি দূরে না দুই মিনিটস এর ও কম

দুরুত্ব ওখান থেকে।বাড়িতে ঢুকতেই,,,

''রাত করে কেন আজ??আয় খাবি আয়।তোর দেড়ি হলো বলে আশা ডাকতে চলে গেছিল।এইভাবে 

বাইরে কেন থাকিস??রাত বিরাতে??বড় ও ত বেশি একটা হস নি শুধু বিয়েটাই করানো হয়েছে এই বয়সে আর কি''

কিছু না বলেই ঘরে চলে আসলাম।দেখলাম আশা পিছনেই ছিল,,,মা বললো খাবার ঘরে জেনো নিয়ে যায় আশাকে আর সে নাকি ঘুমাবে সেটাও বললো।

আমি ওতটা খেয়াল না করেই ঘরে চলে আসলাম

কিছুক্ষণ পর আশা হাতে খাবার নিয়ে আসলো।

আমি কিছুই খেয়াল করছিনা অন্যদিক ঘুরে শুয়ে আছি,,,কিন্তু দেখলাম হাত তুললো ডাকার জন্য কিন্তু না ডেকেই হাত নামিয়ে নিলো।না খেয়েই শুয়ে আছি জানি আশাও খাবেনা।আমি ত ঘুমাতেই পাড়লাম না জানিনা কেন,,,আসলে অভ্যাস হয়ে গেছে কাওকে বুকে চেপে ঘুমানোর তাই।

"ওহ ঘুম হচ্ছেনা এখন কি করি??উঠে বসে পড়লাম আর দেখলাম আশা চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে গেছে।

মেয়েটা সত্যি অনেক বেশি আমাকে নিয়ে পড়ে থাকে

একটা থাপ্পড়ও ই ত দিছে তাতে এমন করতে হবে??

না খেয়ে কেমন করে ঘুমাচ্ছে ইশ,,,যাই গিয়ে ডেকে নেই। কিন্তু সে কি খাবে এখন??আর ঘুমাচ্ছে যে সে।

কিন্তু আমার ঘুমের যে বারোটা বেজে গেছে আমি ত ঘুমাতে পারছিনা।তাহলে কি নিজের জন্য ওর ঘুম নষ্ট করব???কিন্তু সে ত শুধু আমাকে নিয়েই ভাবে 

তাহলে ত ভুল কিছু করছিনা''

এখন রাগ একদম ই কাজ করছেনা শুধু ফালতু রাগ দেখিয়ে মেয়েটাকে কাঁদালাম দূরে সরাচ্ছিলাম।

এসব ভেবে ডাকতে ডাকতেই ৪০ মিনিটস চলে গেলো,,,তারপর

''আশা''এই আশা"

(আমি হাত দিয়ে ঢেলে)

''উম্ম''(ঘুমের মাঝে চোখ মুছতে মুছতে তাকিয়ে)''তুমি'' (কিছুটা জ্ঞান হয়ে)''ফাহিম প্লিজ আমার উপরে রাগ করে থেকো না প্লিজ''

(আমার গেঞ্জি টেনে ধরে কেমন করে জেনো)

''আহহা আমি রেগে নেই উঠো খাবে তুমি''

[কথাটা শুনে কিছুটা থমকে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে আমাকে] ''আচ্ছা দাড়াও আমি খাইয়ে দেই তুমিও ত খাওনি,,, উম্মাহ বাবু'' (ঠোটে বসিয়ে দিলো হঠাত করে)(তারপর হাত ধুয়ে আসলো)

''এই নাও খাও হা কর'' (আশা)

''আমি আমার খাওয়ার জন্য ডেকেছি তোমাকে''

[আমার কথা শুনে থমকে গিয়ে]''তাহলে''

''তোমার খাওয়ার জন্য ডেকেছি''

''ওহ তাই বলো,,,,কিন্তু তুমি না খেলে আমি খাবো কি করে আগে তুমি'' (আশা)

''না তোমাকে খাওয়ার জন্য দেকেছি তুমি আগে হা কর হা''(ওর হাত দিয়ে ওকেই খাওয়াই দিলাম)

''এইবার ত তুমি খাবে নাও প্লিজ''

''হুম''

বেশ ভালোভাবেই খাওয়া হলো।ইশ খুদাও লেগেছিল

আমার ভালোই হলো। তারপর আমি শুয়ে পড়লাম

আশা থালা গুলো রেখে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে

আমি শুয়ে থেকে খেয়াল করলাম,,,,তারপর

''কি হলো আসো দাঁড়িয়ে কি দেখো''

''না মানে সত্যি তোমার কাছে আসবো''

(আশা ইতস্ততভাবে)

''আরে বাবা আমার ঘুম হচ্ছেনা বুকে ভার নেই বলে আর এ বলে কি''আসো ত''

''আচ্ছা''

(বলে খাটে বসলো)

[আমি বসে থাকা দেখে]''কি হলো আসো ঘুমাবো ত''

''মানে সত্যি তোমার কাছে বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো''

(হাত দিয়ে আমার দিকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলছে)

''আহহা ঘুম আসছেনা ত আসো এখানে শুয়ে পড়''

''ওহ আচ্ছা এই ত শুয়ে পড়েছি''

(আশার বুকে মাথা রেখে শুয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে আছে)

''কি হলো কি দেখো''

''না মানে বলবো''

''হুম বলো''

''সত্যি বলবো''

''হুম বলো কি''

''তোমার ঠোট গুলো বেশ লাগছে এখন''

[কথাটা শুনেই আমি হাসতে লাগলাম]

''কি হলো হাসছো যে''

''আমার ঠোট সুন্দর??জিবনে প্রথম শুনলাম। ঠোট এইটা সুন্দর না এইটা সুন্দর বলে তোমারটার মতো

গোলাপ রাঙ্গা পাতলা পাপড়ির মতো''

''তাহলে ছুঁয়ে দাও না''

''মানে''

''মানে বুঝতে হবেনা মিশে দাও ইচ্ছে করছে যে''

''ওহ এই বেপার আগে বলবে ত''

''বলবো কিভাবে লজ্জা লাগে ত''

''ওলে বাবা তাই দাড়াও লজ্জা দূর করছি''

''হুম দূর করে দাও বাবু''

''এই ত একমিনিট সোনা একমিনিট''

part_4

সকালবেলা,,,,

আমি ঘুম থেকে উঠিনি এখনও আশা এসে ডাকলোও না। করলো কি??গসল করে এসে দেখছিল তারপর ভেজা চুল দিয়ে নাকে ছোঁয়াচ্ছিল।

ঘুমের মধ্যে বেশ অসস্থি লাগতেই লাফিয়ে উঠে পড়লাম।

''কি হচ্ছে এটা হুম''

''কি হবে''

(পাশে এসে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে)

''ওহ কিছুই হয়নি''

(কাছে টেনে নিলাম)

''কি হলো বাবুর''

''কিছুনা''

''তাহলে এমন করছো কেন হুম''

''কই কি করি''

''তাহলে কাছে টেনে নিলে কেন আমাকে''

''কেন আমার বউকে কাছে টেনে নিবো তারজন্য কি আপনাকে আমার কইফয়েত করতে হবে হুম''

''ওহ তাই বুঝি''

''হুম''

(চুলে হাত লাগাতে লাগলাম আর মাঝে মাঝে একটু দুষ্টুমি)

''কি কর গো"

''কি করি''

''ছাড়ো যাও ত তুমিও গসল করে এসো''

"গসল কেন করব''

(নিলাম টান মেড়ে কাছে)

''মনে নেই?? আসো আসো যাও গসল করে নাও''

(হাত ধরে টানতে লাগলো)

''আরে যাচ্ছি যাচ্ছি"

"আরে আসো ত''

টেনে টেনে বাথরুম অবধি নিয়ে গেলো।আমি ঢুকে গেলাম,,, কিছুক্ষণ পর

''আশা,,, শুনো ত''

(আমি ভিতর থেকে ডাকছি)

''হ্যা কি হলো তোমার"

"আরে তাওয়াল ত দিলে না শুধু ভিতরে ঠেলে ঢুকিয়ে দিলে ভিতরে''

"ওহ তা কই রাখছো সেটা ত বলবে''

''দেখো আছে কোথাও একটা''

''আচ্ছা পাইছি নাও নাও''

"হুম দাও''

(দরজা কিছুটা খুলে হাত দিলাম)

''কই নাও না কেন''

''আরে এই ত হাত দাও''

''কই আমি ত হাত দেখছিনা''

''বুঝে গেছি''

''কি বুঝলে তুমি''

[ধারাম করে দরজাটা খুলে হাত ধরে টান মেড়ে ভিততে নিলাম]''এখন পাইছো হাত??না আমাকেই পেয়ে গেলে''

''ইশ ভিজে যাচ্ছি ত,,,ছাড়ো আমি গসল করছি ত''

''কোনো বেপারনা সোনা ব্যবস্থা আছে''

''কি ব্যবস্থা''

(আমার চোখের টাগর চোখে তাকিয়ে)

''বুঝোনা''

(ঘারের কাছে মুখ লাগালাম)

''এই না"

''না বললেই কি আমি ছেড়ে দিবো তোমায়''

''ছাড়তে কে বলেছে''

(লজ্জা চোখে)

''তাই নাকি তাহলে ব্যবস্থা করে দিবো''

[কিছুটা অবাক হয়ে]"কিসের ব্যবস্থা বাবু''

''কিছুনা আসো''

(জড়িয়ে ধরলাম বুকে টেনে)

অত:পর গসল দিয়ে বেড় হলাম দুজন,,,তারপর

''এইশুনো''

''হুম বলো''

(কাছে গেলাম)

''এই কাছে আসছো কেন''

''তুমিই ত আসতে বললে''

''আমি তোমাকে শুধু ডেকেছি কাছে আসতে বলিনি''

''ওহ ওকে''

(ঘুরে গিয়ে জামাকাপড় নিচ্ছি কিন্তু একি)

''হাসতে লাগলো আশা''

"এইটা কি হলো দাও এটা"

''না দিবো না''

(পিছনে হাত নিয়ে)

''আহহা দাও না''

(আমি হাত বাড়িয়ে)

''না দিলে কি করবে হুম''

(পিছনে হাত নিয়ে)

''কি করব দেখবে''

''হুম দেখাও''

''এই দেখো''

[হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে আশা]''এইটা কি হলো''

''হাহাহা,,,তুমিই চোখ বন্ধ করে আছো বাহ বাহ''

''ওহহো তাই ত''দাও ফিরিয়ে দাও''

''কি দিবো''

''তাওয়ালটা দাওনা''

''তুমি কি আমাকে আমারটা দিছো??না ত এখন আমি কেন দিবো থাকো ওমন ভাবে।হাহাহা,,,

''হেসে লাভ নেই এই তোমারটাই পড়ে নিলাম এখন''

''তাতে কি আমি পড়ব না,,, আমি সরাসরি পোশাক নিবো''

''বলছি কি ফাহিম''

''হ্যা বলো''

''আমি না আজ শাড়ি পড়ব''

''হুম পড়ে নাও''

''কিন্তু''

''কিন্তু কি''

''আমি ত পড়তে পাড়ি না তাই''

''তাই কি''

''তুমি পড়িয়ে দিবে''

''হাহাহা কি''

''হাসার কি হলো দিবে নাকি তাই বলো''

''আমি??লুঙি পড়তে পাড়িনা তোমাকে আবার শাড়ি''

"যাও দিতে হবেনা''

(মুখ গমরাহ করে বসে গেলো)

[আমি পাশে গিয়ে বসতেই হাতে তাওয়াল দিলো আমি পড়ে নিলাম]''আশা"

''হুম''

''শাড়ি পড়বে কেন''

''এমনি ইচ্ছে করলো তাই''

''ওকে চলো তোমাকে ২য় বার বউ সেজে দিবো কেমন"

''সত্যি,, উম্মাহ বাবু''

"ইশ এসব কিন্তু ভালো লাগে না হুম''

"কি বললে ভালো লাগেনা''

(অভিমানী গলায়)

''হুম''

''আবার বললে??ওকে যাও আর কোনোদিন দিবোনা''

''আরে না না আমি ত এমনি বললাম''

''এমনিই বলো আর তেমনিই বলো আর দিবোনা দিবোনা যাও''

''তুমি না দিলে কি হবে আমি ত আছি জোড় করে নেওয়াএ জন্য''

''কি জোড় করে নিবে হুম''

''দেখবে''

আমি একটু ঝুগতে লাগলাম আশার দিকে আর আশাও বিছানায় জেনো শুয়ে যাচ্ছে,,

"কি হলো ঝুগছো কেন''

''আদায় করব তাই''

''না''

কথাটা বলতেও পাড়ল না তার আগেই আশার মুখ বন্ধ করে দিলাম ঠোট গুলো যে ছোঁয়া পেয়েছে।হাতে হাত রেখে চেপে ধরে আছি আর স্বর্গের সুখ নিচ্ছি,,,

আর জিবনে কি আছে দেখে নিচ্ছি ওহ থুড়ি আমি ত এমন ই আছি !!আমি কিভাবে??হাহাহা।

যাইহোক বেশ অনেক্ষন পর ছেড়ে দিয়ে উঠে বসলাম

আশাও উঠে বসে ঠোট মুচ্ছিল আর চুল ঠিক করছিল,,,তারপর

''এই আদায় করা হলো??এখন শাড়ি পড়িয়ে দাও

এই ধরো ''(শাড়ি হাতে ধরিয়ে দিলো)

''এই এইটা না ওই নীলটা দাও নীল শাড়িতে তোমাকে বেশ লাগবে''

''ওকে তুমি যেইটা চাইবে সেটাই হবে''

''জানি ত দাও খুলো''

[নিজের দিকে তাকিয়ে]''এই কি খুলবো''

''না মানে এর উপরে পড়বে নাকি??ব্লাউজ আর ছায়া নাও''

''ওহ তাই বলো"দাড়াও পড়ছি''

তারপর শাড়ি নিয়ে গায়ে জড়িয়ে দিলাম।তারপর শাড়ির এক অংশ ছায়ায় গেঁথে দিলাম তারপর কুচি করে দিয়ে শাড়ি ভালো করে প্যাচিয়ে নিয়ে মাথা ঘোমটা করে দিলাম একদম মাথা।তারপর

''এই নাকি তুমি শাড়ি পড়িয়ে দিতে পারোনা??তাহলে এইটা কি''

''ওই ত একটু একটু পাড়তে হয় আর কি সবকিছু''

''তুমি একটু আকটু পারো??বদমাইশ একটা''

''হুম এইবার আমার ব্যবস্থা কর আমাকে পড়িয়ে দাও কিছু''

''না না এইটা পাড়ব না আমি''

''কেন কেন''

(আমি একটু অবাক হয়ে)

''তোমাকে পড়িয়ে দিতে গেলে তুমি খোলা শুরু করবে নিজেই পড়ে নাও''

''এয়্য কেমন বিচার আমি যে পড়িয়ে দিলাম''

''ত''

''বিচার কিন্তু ঠিক হইলোনা''

'' না হলে না হবে নিজে পড়ে আসো ম্যাচিং পাঞ্জাবি আমার সাথে ওকে আমি খাবার সাজাচ্ছি''

part_5


আশা বাইরে গেলো খাবার সাজাবে বলে কিন্তু বেশ অনেক্ষণ আমি বাইরে আসছিনা বলে সে খাবারের থালা নিয়ে ভিতরে চলে আসলো,,,তারপর

''এই তুমি এখনও এইভাবেই বসে আছো??লজ্জাশরমের কি মাথা খাইছো নাকি?ছিঃ ছিঃ এতো বড় ছেলে এই অবস্থায় কেও দেখলে কি হবে''

[খানিকক্ষণ হাসলাম আমি]

''হাসছো কেন''

''হাসবো না ত কি করব?হুম''

''হাসার মতো কি বললাম সেইটা ত বলবে''

''কে দেখবে হুম আমার বউটা ছারা''

''বদমাইশ ধরো নাও পড়ে নাও''

''আমি ত বললামই তুমি পড়িয়ে দাও''

''আমি তোমাকে কেন পড়িয়ে দিবো??আমি ত তোমার বাচ্ছাকে পড়িয়ে দিবো হুম''

''কেন এমন হবে??বাচ্ছার বাবা কি দোষ করলো''

''ধ্যাত এই নাও পড় ত ঝটপট''

''ওকে''

কিছুক্ষণ পর পোশাক নেওয়া শেষ তারপর,,,

''এই নাও রেডি আমি''

''কই না ত বাদ আছে আরও অনেক কিছু''

''কি বাদ আছে??তোমার মতো মেকাপ করা নাকি''

''মনে কর বেপারটা তাই''

''মানে আমি মেকাপ করব নাকি''

(কিছুটা চমকে গিয়ে)

''আরে সেরকম না হাল্কা খাতির হবে ফেসের ওকে''

''কি জানি কি করবা তুমি''

''আরে ভেবো না ত তুমি''

''আচ্ছা দেখি কি কর''

''(age age dekho hota heya keya)''দেখো কি হয়''

''কি দেখাবে কে জানে ভুত না বানালেই হলো''

(নিজে নিজে বলছি)

''কিছু বললে''

''আরে না না,,, কি করবে কর''

তারপর আর কি বেলিফুল তেলের কতখানি নিয়ে যে মাথায় দিলো বাবা চুল একদম তেল তেল হয়ে গেছে। আমি লাস্ট কবে তেল দিছি নিজেও জানিনা হয় ত শীতের সিজনে দু একদিন যখন একটু প্রয়োজন মনে হয় তখন দিতে হয় তাছাড়া অন্য মাস গুলো না একদমই দরকার নেই। কিন্তু আজ আমার বাঘ মার্কা চুলটা তেল দিয়ে বিড়াল বানাইয়া দিলো। আর থাক থাক ফেসে কি করছে সেটা না বলি,,,

''বাহ ঝাক্কাস''

''এইটা ঝাক্কাস নাকি ছাই বারোটা বাজাইয়া দিছো''

''সত্যি বলছি এমন ই সেই লাগে এখন থেকে এমন করেই রাখবো তোমায়''

''হো সয়ং বানাইয়া রাইখা দিও"

''কি বলো সয়ং কেন হবে??বেশ ভালোই ত লাগছে তোমায়''

''ওকে যেমন ই লাগুক আমার ভেবে কি কাজ??আমার ত কিউট একটা বউ আছেই''

(আমি কাছে গিয়ে গাল হাতিয়ে ধরলাম)

''ওলে বাবা তাই''

(আমার গালে চিপ্পি মাইরা)

''হুম তাই ত...কিন্তু কথা হলো এমন ভাবে আমরা যাবো কোথায়??

''কেন তোমাদের ক্রশবার ৩ এ''

''ওখানে ত সব প্রেমিক/প্রেমিকারা যায় আমরা বাচ্ছা গিয়ে কি করব''

''হাহাহা কি!তুমি বাচ্ছা??আর আমিও বাচ্ছা??তাহলেই হইছে বাচ্ছাই যেমন বড় হলে যে কেমন ছিল আল্লাহ্‌ মালুম''

''কেন কি হয়েছে''

''কিছুনা বাবু তবে হবে তোমার না আমার''

''কি হবে''

''তুমি আর আমি যেইটা এখন বললা না??সেইটা হবে''

''মানে?? ঠিক বুঝলাম না''

''তুমি ত বাচ্ছা ঠিকি আছে একটু কম বুঝবা স্বভাবিক সেটা''

''ওহ''

''হুম চলো ওখানে যাবো''

''বললাম না ওখানে প্রেমিক/প্রেমিকারা যায়''

''ত আমরা কি''

''আমরা ত বর বউ''

''সেইটা ত বিয়ের পর হয়েছি মনে কর আমাদের বিয়ে হইনি বিয়ের আগে ওকে।এখন বলো আমরা কি''

''তাহলে ত আমরা''

''হুম বলো আমরা''

''আচ্ছা চলো তাহলে''

''কেন বলবা ত আগে আমরা কি''

''ওইত এখন বর বউ আমরা''

''ওহ তাহলে তাই কিন্তু মনে হয়??আমরা বরবউ''

''না ত ভাইবোন মনে হয়''

(মুখের ভ্যাংচি মাড়লাম)

''বদমাইশ''

''হো তাই বদমাইশ''

''আরে লাগ কলে না বাবু,,, আমি ত এমনি বলছি আমার সোনা বর না তুমি''

''তোতলামি ছাড়ো আর চলো''

''ওকে বাবু''

(বলেই হাতের মধ্যে দিয়ে হাত দিলো যেমনটা দম্পতীরা ধরে যায়)

''এই খাওয়া লাগবে না?? তার আগেই যাবে নাকি''

''ওহহো তাই ত চলো তোমাকে খাইয়ে দেই,,,উম্মাহ''

''সেটা না হয় হলো কিন্তু এইটা কি হলো''

''আরে বুঝো না?? এড দেখোনা??খাওয়াদ আগে মিষ্টি মুখ করে নিতে হয় তাই ত করাইয়া দিলাম''

''তাহলে তুমিই ত খাবে তুমি বাদ থেকে কি হবে হুম''

(কথাটা বলেই কাছে এগিয়ে যেতে লাগলাম)

"না আমার লাগবেনা''

''না করলেও করাইয়া দিবো মিষ্টি মুখ''

(আরো এগিয়ে গেলাম)

''আমার লাগবে না ত বাবু''

(মুখের সামনে হাত দিলো)

আমি হাল্কা করে আঙ্গুলে কামড় দিলাম আহ করে হাত সরিয়ে নিতেই ব্যাচ মিষ্টি সেকেন্ড টাইম ভালো করে চেখে নিলাম।দেয়ালে চেপে ধরে মিষ্টির সাধ অনুভব করলাম।

এই জিবনে মনে হয় ডায়াবেটিস হবেই হবে এইভাবে চলতে থাকলে,,,যাইহোক তারপর

বেশ অনেক্ষণপর ছেড়ে দিলাম। দেখলাম আশার ঠোট কাঁপছে আর চোখ গুলো একদম লাল হয়ে গেছে, জেনো আগুনের স্থপতিফলক ঝরছে।

''এইটা কিন্তু ঠিক না'' (আশা)

''কি ঠিক না?বাবু''

(গালে হাত লাগালাম আশার)

''এই যে এটা''

''কেন কেন''

''কেন না আবার এই বললে আমাকে মিষ্টি খাওয়াবে কিন্তু কি হলো এটা''

''কি হলো''

''জানো না??তুমি ই খেলে আবার''

''ওহ বাবা কেন তুমি খাওনি''

''না তুমি কেড়ে নিছো যাও কথা নাই তোমার সাথে''

(মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে)

''কই কেড়ে নিলাম? বাবু এইদিকে তাকাও''

(আমি গাল ধরে ঘুরিয়ে)

''না তুমি কেড়ে নিছো তোমার সাথে কথা নেই যাও''

''আমিত নেইনি সত্যি তোমাকেই ত দিলাম''

''না তুমি কেড়ে নিছো''

''আচ্ছা বাবা সরি এই কান ধরছি নেক্সট টাইম তোমাকেই দিবো''

''নেক্সট টাইম কখন আগে সেইটা বলো''

''কখন??আচ্ছা রাতে হবে''

''না''

''তাহলে''

''আমার এখন চাই''

''এখন আবার''

''কেন দিতে পাড়বা না''

''পাড়ব কিন্তু আবার''

''বেশি কথা না বলে এখানে থাকো''

''এই জোড় করব নিবে নাকি''

''হো তাই নিবো আমার মিষ্টি এ কাইরা নিবা কইলেই হলো''

''এইভাবে জোড় করে তাই বলে''

(মুখের সামনে হাত দিয়ে আমি দেয়ালে চেপে আছি)

''ওকে যাও লাগবেনা এসো খেয়ে নিবে ক্ষণ''

''আচ্ছা''

তারপর আর কি বউ হাতে তুলে খাইয়ে দিলো আর আমি খেলাম। একটু হাল্কা দুষ্টুমিও ফ্রি,, ফাহিম বর বলে কথা দুষ্টুমি হবে না শান্তিতে থাকবে??তা আবার হয় নাকি''যাই হোক আপাতত খাওয়া শেষ।

তারপর ই বৃষ্টি শুরু হলো,,

''এই জানালা লাগাও পানি আসছে ত ঘরে''

''আসুক না তাতে কি''

''এ তোমার ত দেখতে হয়না তুমি কি বুঝবা ঘর দেখতে হয় আমায়''

''ওকে লাগাচ্ছি ত''

''এহহে এতো বৃষ্টি শুরু হলো এখন কিভাবে যাই বলো ত'' (আশা)

''সেটাই ত ভাবতেছি''

''থাক ভেবে কাজ নেই চলো ঘুমাই''

''ঘুমাবো এখন'' (আমি)

''না মানে শুয়ে থাকবো দেখোনা শীত লাগে চলোনা

কাথায় জড়িয়ে দুজন শুয়ে থাকি''

''এইটা আবার কেমন ইচ্ছে''

''হুম আমার ইচ্ছে এমনই,, চলো চলো''

(হাত ধরে টানছে)

''ওকে বাবা আসছি কিন্তু এইভাবেই শুতে হবে আমার পাঞ্জাবী তোমার শাড়ি গহনা ইত্যাদি ইত্যাদি ''

''হুম তুমি বুঝলে না গো এখানে আলাদা একটা ভাবনা আছে''

''কেমন ভাবনা''

''এইদেখো আমি শাড়ি গহনা পড়ে আর তুমিই ত বললে বউ সাজিয়ে দিবে তা সাজিয়েছো ত??হুম

আর তুমি পাঞ্জাবি পড়ে এমন লাগছে অনেকটা

বর বর লাগছে মানে নতুন জামাই আর কি''

''ত''

''ত বৃষ্টিদিন একটা রোমান্টিক ভাব রোমান্টিক পোশাক যদিওবা রাত নয় তাও''

''তারপর''

(আমি এগোতে লাগলাম)

''তারপর আর কি বৃষ্টিদিন কিছু বলেনা মন??অন্যরকম চাওয়া অন্যরকম ভাব''

''তারপর''

(আমি আরো এগিয়ে যাচ্ছি)

''তারপর দুজনাতে মিশে যাবো এই মহনায় এই সময়টায়''

(আশা পিছুতে লাগলো)

''তারপর''

''তারপর কি বলতে হবে তোমাকে??অন্যরকম একটা লুক নিয়ে''

''একদম ই না''সোনা বুঝে গেছি আমি''

''কি বুঝলে হুম''

''বলবো নাকি করে দেখাবো''

আশা লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলো।আর আমি ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে দিলাম,, তারপর আমি ঝাঁপিয়ে পড়লাম আশাকে নিয়ে। কাথাটা নিয়ে একদম ঢেকে নিলাম,,,

তারপর আর কি বলবো??

বৃষ্টির দিনে সেকেন্ড বাঁশর শুরু হয়ে গেলো আমাদের

হুম নাম দিলাম 

বৃষ্টি দিনে সেকেন্ড বাঁশর 😉😉😉

বিকেলের দিকে বৃষ্টিটা প্রায়শই নেই আর তাই আশা জ্বীদ ধরলো নদী পাড়ে যাবে। রাজি হয়ে গেলাম একমাত্র সিনিয়ার বউ দাবি করেছে না মানলে হবে?বেয়াদবি হবে না আবার?? খুব সুন্দর লাগছে চারদিকটা আকাশটা মেঘাছন্ন কেটেছে পাখি গুলো শরির ঝাকি দিয়ে পানি ফেলছে নদীতে হাস ভেসে বেড়াচ্ছে। আর তার সাথে আমরা কিনারা দিয়ে দুজন হাটছি,,,

চলুকনা দুষ্টমিষ্টি প্রেম গুলো এমন ভাবেই সারাটাজিবন ধরে। কেন থামতে হবে মাঝ পথে??

💘💘ভালো থাকুক পবিত্র ভালোবাসা গুলো💘💘

✈✈সমাপ্ত✈✈

(হয়তো শেষটা অন্যরকম হতে পাড়ত কিন্তু ভেবে দেখলাম যে গল্পে প্রথমে সুন্দর করে শুরু করেছি সেটায় কষ্ট আনা কি উচিৎ হবে??আর গল্পটা ছোট করলাম তার জন্য দুঃখিত আসলে বড় করলে গল্পে বোরিং আসে পড়তে যেটা চাইনা আমার গল্পে আসুক তাই আর কি শেষ করে দিলাম।)

আরো ভালো ভালো গল্প পরতে এখানে ক্লিক করেন - Golper Dibba

Post a Comment

0 Comments