পরী দ্বারা ধর্ষন - রহস্যময় অদৃশ্য ধর্ষন (season_3, part_06 - part_10 )
part_6
season_3
অনেক শক্তি আছে দেখি অশরীরীটার।🙉🙉
যাক আপাতত সেফ আছি।😣😣
কি এমন আছে এই ডায়েরিটাতে যেটাতে টাচ করার সাথে সাথে অশরীরীটা আমাকে এভাবে আক্রমণ করলো.??
দেখতে হবেই কি এমন আছে ডায়েরিতে,,
তাতে যা হবার হোক,,আবার খুলে পড়তে শুরু করলাম,,যা লেখা আছে,,,
আমি অপোয়া,রাক্ষসী, কালনাগিনী।
কি অবাক হচ্ছেন.??
হুমম অবাক হওয়ার ই কথা,,ঐ সব গুলাই আমার নাম তবে আমি জন্মের সময় কিন্তু ঐ নাম ছিল না।
আমার নাম রাখা হয়েছিল নুসরাত জাহান কেয়া
কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই নাম হারিয়ে ফেলেছি আর একেক সময় একেক নামে পরিচিত হয়েছি।
মানুষের মুখে শুনি মেয়ে সন্তান নাকি বাবা মায়ের রাজকন্যা হয়,,কিন্তু আমার কোন দিন সেই রাজকন্যা হয়ে উঠা হয় নি।
জন্মের পরের দিনই মা বিদায় নেন পৃথিবী থেকে।
হয়তোবা তখন থেকেই ঐ নাম গুলো রাখতে শুরু করেছেন লোকজনে।
জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই বাবা বিয়ে করেন,,যতদূর শুনেছি সৎ মা তখন থেকেই আমাকে দেখতে পারতো না,,অপোয়া,কালনাগিনী, রাক্ষসী, অলক্ষি ইত্যাদি নামে ডাকতো,,আস্তে আস্তে সেই নাম ছড়িয়ে পরে সবার মুখে মুখে,,
বাবা বিয়ে করে নতুন মা কে নিয়ে সুখে সংসার করতে শুরু করেন,,আমার খোজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করতেন না তেমন একটা,, এক মাত্র দাদি আমাকে ভালবেসে আঁকড়ে ধরে রাখেন। সবার মুখ আটকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন।
কিন্তু যখন হাল্কা হাল্কা বুঝি, বয়স মাত্র তিন বছর তখনই দাদিকে হারাই।
এর পর থেকে মাথার উপর যতটুকু আশা ও ভালবাসার ছায়া ছিল তা মহূর্তের মধ্যেই সরে যায় আর সেখানে এসে বাসা বাঁধে নিকোশ কালো অন্ধকারাচ্ছন্য মেঘ। যে কোন সময় সেই মেঘ ফেটে শুরু হতে পারে তুমুল ঝগ বৃষ্টি তুফান টর্নেডো।
তবুও নিজের বাড়িতেই ছিলাম,,যতটুকু আশা ছিল তাও শেষ হয়ে গেল যখন বাবা ব্যবসায় লসে পরলো,,, সৎ মা সবটা দোষ আমার ঘাড়ে দিল,,আমার জন্য নাকি উনাদের সংসারে অশান্তি হচ্ছে,, আমার জন্য নাকি লস হইছে,,আমি তো অলক্ষি,,অপোয়া, রাক্ষসী,, জন্মের পরেই মা কে,, তারপর দাদিকে এখন নাকি উনাদের খাওয়ার জন্য ঐ বাড়িতে বসে আছি,,
আগে বাবা তাও একটু একটু ধমক দিতেন কিন্তু ব্যবসায় লসে পরার পর উনিও মায়ের সাথে মিলে আমাকে যা ইচ্ছে তাই বলতে থাকেন,, বাড়ি থেকে বের করে দেন,,তখন আমার বয়স মাত্র পাঁচ বছর,,
তেমন একটা ভালো করে বুঝতেও শিখি নি।
আমার মামা মামিদের নিষেধ উপেক্ষা করে নানা নানি আমাকে উনাদের বাড়িতে মানে আমার নানা বাড়িতে আশ্রয় দেন।
কিন্তু সেই বাড়িতে আমার নানা নানি ছাড়া কেউ কখনো আপন হতে পারে নি।
মামা নাকি বাবা সমান,, কিন্তু যেখানে নিজের পিতাই আমাকে দেখতে পারেন না,,সহ্য করতে পারেন না সেখানে মামা দের কথা নতুন করে কি বলবো.??
খালাম্মারা নাকি মায়ের পরেই তাদের স্থান পায়।
কিন্তু আমার ক্ষেত্রে পুরোটাই ভিন্ন ধরনের।
খালাম্মারা মনে করতো আমিই আমার মা'কে মেরে ফেলেছি,,তাই উনারা কখনোই আমাকে সহ্য করতে পারেন নি,,কখনোই ভালবাসা তো দূরের কথা,, একটু সময় ভালো করে তাকিয়েও দেখেন নি।
যার জীবন শুরু হয় কষ্ট দিয়ে তার জীবনে সুখ আসবে কোথা থেকে.??
মাত্র ১০ বছর বয়সে নানা জানকে হারাতে হয়,,আর ১২ বছর বয়সে নানিকে😭😭
আর এই সবটা দোষ আমার উপর দেওয়া হয়।
আচ্ছা আপনারাই বলুন তো,,,জন্ম মৃত্যুর মালিক কে.???
আমি কিভাবে তাদের মৃত্যুর কারন হতে পারি.??
তাছাড়া আমি জন্ম না নিলে কি যারা মারা গেছেন তারা কি মরতেন না.??
নানা নানিকে হারিয়ে জীবন দুনিয়ার জাহান্নামের আগুনে পুড়তে থাকে।
শুরু হয় নতুন অধ্যায়,,কাজের মেয়ের অধ্যায়।
বাড়ির সব কাজ আমাকে করতে হয়,,পড়াশোনা নাম মাত্র চালিয়ে যেতে পারি,, যতটুকু চালাই ততটুকু সবটাই নিজের প্রচেষ্টায়
আমি ছাড়াও এ বাড়িতে আরেকটা কাজের মানুষ ছিল,, সে পর্যন্ত আফসোস করতো আমার সাথে করা ব্যবহার দেখে,,কিন্তু আমি এটাই জানি না কি আমার অপরাধ,, হতে পারে জন্ম নেওয়াটাই মূল অপরাধ ছিল।
কখনো ভালো কোন ড্রেস কিংবা বই বা খাবারটা পর্যন্ত ভালো দিত না,,
সারাক্ষণ শুধু চিন্তা করতাম,,এভাবেই কি জীবন শেষ হয়ে যাবে নাকি জীবনে পরিবর্তন আসবে.??
সাল ২০১২,,,
বড় মামি জানালেন রান্নায় পরিবর্তন আনতে।
বেশি বেশি আইটেম করতে।বাড়িতে নাকি মেহমান আসবে।
কিন্তু জানি না কোন মেহমান বা কে আসবেন।
আমিও উনার কথা মতন অনেক কিছু রান্না করলাম,, পোলাও, মুরগী, মাছ,গরুর মাংস,মাছ বাজি, শাক, সবজি, ডিম,,চিকেন রোস্ট, চিকেন ফ্রাই, সেমাই,পায়েস, আলু ভাজি ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু।
রান্না করার শেষ দিকে বানুর মা'কে সরি বলতে ভুলে গেছি এই বাড়িতে আমি বাদে যে কাজের মানুষটা ছিল তার নাম রহিমা কিন্তু তার মেয়ের নাম বানু,,জানি না বানু ছাড়া আরো কোন নাম আছে কিনা,,সবাই বানুর মা বলর ডাকতো আমিও তাই ডাকতাম,,,তো বানুর মা'কে জিগ্যেস করলাম
।
আমিঃ-বাড়িতে কে এমন আসবে যে এতো রান্নার আয়োজন হচ্ছে..?
।
বানুর মাঃ- ওমা তাও জানোছ না.??
তোর বুনের সমন্ধ আইতাছে,,ওহহহ ওরা তো আবার তুরে বুন পরিচয় দিতে লজ্জা পায় তাই মুনহয় তুরে কিছু কয় নাই।
।
আমিঃ- বিয়ের সমন্ধ কি গো বানুর মা খালা।
।
বানুর মাঃ- ওমা এ মেয়ে কয় কি..??
এ নাকি বিয়ার সমন্ধ বুঝে না,,বিয়ার আগে যে মেয়ে পক্ষকে দেখতে আহে জামাই পক্ষ আর বিয়ার সমন্ধে কথাবর্তা কইতে আহে হেইডারে কয় বিয়ার সমন্ধ,, বুঝছোস..??
।
আমিঃ- কিছু কিছু বুঝলাম,,,
।
বানুর মাঃ- আইচ্চা আর বুঝোন লাগবো না,,তারা তারি রান্ধন শেষ কর,,নাইলে আবার তুর মামি তুরে বকবে।
।
আমি সব রান্না শেষ করলাম।
এর মাঝে শুনতে পাই ছেলে পক্ষ নাকি চলে এসেছেন,, সবাই গিয়ে উনাদের রিসিভ করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসলো।
আমার ছেলেটাকে দেখার অনেক ইচ্ছে করছে,হিহিহিহি ছেলেটার লজ্জা সরম নাই,,সবার সমানে একটা মেয়েকে দেখতে আসছে😁😁🤭
কিন্তু আমার তো আরো কাজ বাকি আছে, সব রান্না যদিও শেষ কিন্তু এগুলো আবার সাজাতে হবে,,তারপর তো পরিবেশন করার জন্য নিয়ে যেতে পারবো,, তখন দেখতে পারবো তার আগে না।
কাজ ছেড়ে গেলে মামি খুব বকবে।
হঠাৎ মামির আগমন রান্না রুমে,,
এসে সব খাবার টেস্ট করছেন,,
মামিঃ- হুমমম সব ঠিকঠাক আছে রান্না।
বানুর মা তুমি আর এই মেয়েটা দুইজনে এখানেই খাবে,, খেয়ে তুমি আমার সাথে দেখা করবা।
আর হে তুমি(আমাকে) তোমাকে আজ আর খাবার পরিবেশন করতে হবে না, যা করার আমরা করবো।
।
তাই বলে চলে গেলেন,,আমিও মাথা নেড়ে সন্মতি দিলাম,আবার কি মনে করে যেন ভিতরে ঢুকলেন।
।
মামিঃ- এই মেয়ে (আমাকে)
।
ভয়ে আমি জড়সড় হয়ে গেলাম,,না জানি কোন দোষ বের করবে আর তা নিয়ে বকা দিবে😥😥
আমিঃ- জি মামি😥😥
।
মামিঃ- তুমি আজকে যে পর্যন্ত আত্মীয়রা না চলে যাচ্ছেন সে পর্যন্ত গেস্ট রুমের আশেপাশে আসবে না।
মনে থাকবে কথাটা.??
।
আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না তবে এতটুকু টের পাচ্ছি যদি আমি উনার কথার অবাধ্য হই তাহলে শাস্তি পেতে হবে।
তাই মাথা নেড়ে হ্যা জানালাম।
উনি চলে যাওয়ার পর বানুর মা কে জিগ্যেস করলাম,,
আমিঃ-আচ্ছা আমি তো কিচ্ছুই বুঝতে পারছি না,, মামি হঠাৎ আমাকে ঐ রুমে যেতে মানা করলেন কেনো.??
আমি না গেলে ঐ বরটাকে দেখবো কি করে😥😥
।
বানুর মাঃ- আরে বলদা পাগলি মেয়ে এতটুকুও বুঝোস না..?
তুই তো রাজকুন্যা আর তুর বুনেরা(মামাতো বোন) তো চেহারার দিক থেকে তুে পায়ের কাছেও যাইতে পারবো না তাই তুকে মানা করলো যাতে তুই ঐখানে না যাস,,গেলে তো তুর বুনকে রাইখ্যা তুরে পছন্দ করবে,, বুঝলি..?
।
বানুর মার মুখ প্রশংসা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম,,
আমিঃ- ধুররর কি যে কও না😇😇
।
বানুর মাঃ- অইচে অইচে আর লজ্জা পাইতে অবো না।
যা এবার তুর বুনেরে দেখে আয় কত্ত সুন্দর করে সাজাইছে।
।
আমিও কিছু না বলে চলে গেলাম আমার মামাতো বোন রিয়ার রুমে,,যার বিয়ের জন্য পাত্র পক্ষ এসেছে।
ওমা গিয়ে তো চিনতেই পারছি না বোনটাকে,,যদিও ওরা কখনো আমাকে বোন বলে পরিচয় দেয় না কারোর সামনে,,যাইহোক হাজার হলেও তো আমার মামাতো বোন,,
মেকাপ করে চেহারার কি হাল করেছে,, চিনতেই পারছি না,,কি যে সুন্দর লাগছে,,কেমন জানি আমার মনের ভিতর অন্য রকম একটা কিছু ধাক্কা দিচ্ছে,, জানি না কি তা,,,কখনো এমনটা মনে হয় নি।
আমাকেও কেনো জানি এমন সুন্দর করে সাজতে মন চাচ্ছে 😇😇
যাইহোক মামি এর মধ্যে এসে হাজির,,
মামাতো বোনকে উনাদের সামনে নিয়ে যাবে,,
আমি রুমেই বসে আছি,,
রিয়ার সাথে আরো কয়েকজন মামাতো বোনেরা গেল,, খালাতো বোন,সহ অনেকেই,,আমি শুধু বসে আছি রুমটাতে,,
আমার তো যাওয়া নিষেধ।
যদিও মন চাচ্ছে দেখতে কিন্তু উপায় নেই।
যাইহোক চলে যাওয়ার পর আমি রুম গোছাচ্ছি, হঠাৎ ফোন বেজে উঠে মামাতো বোন রিয়ার,,
পাশের গেস্ট রুম থেকে রিয়ার ফোনের রিংটোন শুনে সেখান থেকেই স্বভাব গত ভাবে ডেকে আমাকে ফোনটা নিয়ে যেতে বলে,,
আমিও আমার স্বভাবগত ভাবে ফোন নিয়ে দৌড়ে ঐ রুমে চলে যাই মামির নিষেধ ভুলে গিয়ে।
ফোনটা দিয়ে আসার সময় একটুর জন্য লক্ষ করলাম ছেলেটা(বরটা) হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,,সঙ্গে বাকি সব আত্মীয়রা।
আমি চলে আসার সময় খেয়াল করলাম মামি আগুন জড়া দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে বড়বড় চোখ করে,,মনে হচ্ছে এখুনি গিলে খাবে আমাকে,,ততক্ষণে আমাকে করা নিষেধাজ্ঞার কথা সরণ হয়,,নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে আর ভয় ও পাচ্ছি না জানি আজ কপালে কি আছে আমার।
কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই মামি এসে,,,.??
part_7
season_3
ফোনটা দিয়ে আসার সময় একটুর জন্য লক্ষ করলাম ছেলেটা(বরটা) হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,,সঙ্গে বাকি সব আত্মীয়রা।
আমি চলে আসার সময় খেয়াল করলাম মামি আগুন জড়া দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে বড়বড় চোখ করে,,মনে হচ্ছে এখুনি গিলে খাবে আমাকে,,ততক্ষণে আমাকে করা নিষেধাজ্ঞার কথা সরণ হয়,,নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে আর ভয় ও পাচ্ছি না জানি আজ কপালে কি আছে আমার।
কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই মামি এসে আমার চুলের মুঠিতে ধরে গালে ঠাস ঠাস করে চারটা থাপ্পড় মেরে বসে,, এরপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং মারতে শুরু করে,, এদিকে আমি চিৎকার করতে গিয়েও করতে পারছি না,, একে তো লজ্জায় আত্মীয় স্বজনরা আসছেন,,আরেক দিকে চিৎকার করলে আরো বেশি মারবে,,
গাল বেয়ে রক্ত বের হচ্ছে,, বানুর মা অনেকবার আটকাতে গিয়েও ব্যর্থ।
এদিকে অন্য মামিরাও না মারলেও গালাগালি করছে।
বড় মামা এসে হাজির এই রুমে,,
মামা আমার এমন অবস্থা দেখে সবাইকে গালাগালি করছে,, জানি না কেনো করছে কারন কোন দিন তো আমাকে আদর করে নি হঠাৎ করেই আজকে এত দরদী হয়ে গেল,, উনার দরদ দেখে আমার কেমন জানি আরো বেশি ভয় লাগছে,,হয়তোবা হতে পারে আত্মীয়দের সামনে সবাইকে দেখানোর জন্য এমনটা করছে কিন্তু এখান থেকে উনারা যাওয়ার পর শুরু হবে।
আমার আত্মা বের হয়ে যাচ্ছে ভয়ে,,,মনে হচ্ছে এখুনি মারা গেলে সব সমস্যার সমাধান হয় কিন্তু তাও তো সম্ভব না।
পরে উনার কথা মতন সবাই মারামারি আর গালাগালি বন্ধ করে দেন।
মামা সবাইকে বুঝাচ্ছেন,,
মামাঃ- দেখো তোমরা যে এভাবে মারতেছো তাতে লাভ কি বল.??
কেয়া যতদিন এই বাড়িতে থাকবে ততদিন অন্য কোন মেয়ের সহজে বিয়ে হবে না,,কারন কেয়াকে দেখার পর তোমাদের মেয়েদেরকে কেউ বিয়ে করতে চাইবে না,,বুঝলা.??
তাই উচিত প্রথম বার যে ছেলে মানে এই ছেলে (যে রিয়াকে দেখতে এসেছিল) কেয়াকে পছন্দ করেছে সো কেয়াকে এখানেই বিয়ে দিয়ে দেই।
তাছাড়া মেয়েকে তো বিয়ে দিতেই হবে হোক তা আগে বা পরে।
।
মামিঃ- তাহলে ওরে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছো না কেন.??
।
মাঝো মামিঃ- ঐ ডাইনী রাক্ষসীটার জন্য কি আমাদের সকল মেয়েদের বিয়ে ভেঙে যাবে.?
জন্মের পরেই মা কে খাইছে,,বাপের বাড়ি টিকতে পারে নি,দাদা, দাদি, নানা, নানি সবাইকে খাইছে এখন আবার আমাদের মেয়েদের জীবন নষ্ট করার জন্য উঠে পরে লেগেছে,, ওরে কেউ বাড়ি থেকে বের করে দাও।
।
মেঝো মামাঃ- ঐ একটু চুপপ করবা.??
দেখো বড় ভাই কি বলে তারপর যা করার কর।
।
বড় মামাঃ- বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া যাবে না তাতে বাড়ির মানইজ্জত নষ্ট হয়ে যাবে তাছাড়া বাড়ির মেয়ে তোমরা মানো আর না মানো,,রিয়া, মিতু, রিমু, পাপিয়া, সনিয়া সকলের মতন কেয়াও এই বাড়ির ই মেয়ে,, সো ওরেও বিয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য তাছাড়া আমাদের ই ভুল বড় মেয়ে কে রেখে ছোট বোনদের বিয়ে দিতে যাওয়্,,যা হয় তা ভালোর জন্যই হয়,আর তাছাড়া ছেলে তো বলে দিছে কেয়া কে বিয়ে করতে রাজি কোন প্রকার যৌতুক ছাড়াই,তাহলে তোমাদের এত সমস্যা কেনো.??
।
বড় মামিঃ- তাই বলে বাড়ির চাকরানির এত বড় বাড়িতে বিয়ে হবে.??
।
ছোট মামিঃ- কাকর চাকরানী বলছেন.??
কেয়ার বাবা ইচ্ছে করলে কিন্তু আমাদের মতন ৪-৫ টা বাড়ি যে কোন সময় কিনে নিতে পারে ওকে.??(বাড়ির মধ্যে এই একটা মাত্র মামি ছিল যে একটু হলেও আদর করতো আমাকে যদিও যথেষ্ট না,,বা চাইলেও মামাদের জন্য করতে পারতো না)
এতক্ষণে সব ক্লিয়ার হল যে,,যে ছেলে দেখতে এসেছিল সে রিয়াকে বাদে আমাকে পছন্দ করছে তার জন্য এত কিছু।
কিন্তু এতে আমার দোষটা কোথায়,,আল্লাহ পাক চেহারা ভালো করে দিছেন তাতেও কি আমার দোষ.??
যাইহোক বড় মামার কথা মতন সবাই রাজি হলেন,,রাজি হওয়ার পিছনে আরো কিছু কারন ছিল যা বড় মামা সবাইকে অন্য রুমে নিয়ে বুঝালেন, কিন্তু বড় মামার আজকের ব্যবহারে মনে হচ্ছে একটু হলেও দয়া আছে আমার জন্য।
সবাইকে রাজি করিয়ে আমার কাছে আসলেন,,
।
বড় মামাঃ- কেয়া,,সারাজীবন তো শুধু কষ্টই করলি মা,, তোর জন্মের পর পর তোর মা মারা যাওয়ার কারনে সেই কষ্টে তো তোকে কম অপমান করি নি কষ্ট দেই নি,, কিন্তু কোন দিন বুঝতে চেষ্টা করি নি তোরও একটা জীবন আছে,,তোর মনেও কষ্ট বলতে একটা শব্দ আছে,,তুই ও মানুষ,, যা হইছে মা সব ভুলে মাফ করে দে🙏🙏🙏
।
আমিঃ- ছিহহহ মামা কি যে বলেন..??
বড়রা কখনো দোষ করেন না,,হয়তো শাসন করেন না হয় আদর করেন,,বড়দের প্রতিটি কাজের মধ্যেই শাসন বা আদর ভালবাসা লুকায়িত থাকে।
দোষ করলে ছোটরা করে আর ছোটরাই মাফ চায়।
আপনি বা অন্য কেউ কোন দোষ করে নি,,আর আমার কোন দুঃখ বা কষ্ট নেই মামা।
আমাকে দয়া করে লজ্জা দিবেন না,,ক্ষমা চেয়ে আমাকে অপরাধী করবেন না প্লিজ🙏🙏🙏
।
মামা আবেগ সামলাতে না পেরে কান্না করে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন,,এই প্রথম মামা জড়িয়ে ধরলেন,, আমার আমার বুকটা সুখে ভরে উঠলো।
মনে হচ্ছে সুখের রাজ্যে আমি ডুব দিলাম।
যাইহোক মামা চোখের পানি মুছতে মুছতে,,
।
বড় মামাঃ- মা সারাজীবন তো শুধু তোকে অবহেলাই করেছি,,কিন্তু কারোর কপালে সুখ লেখা থাকলে সেই সুখ আসবেই,,আর দুঃখ লেখা থাকলে তাও আসবেই,,কেউ আটকাতে পারবে না।
মা ঐ ছেলে বা ছেলের বাবা তোকে পছন্দ করেছেন,,উনাদের ইচ্ছে তোকে আজকেই বউ করে উনাদের বাড়িতে নিয়ে যাবেন,,
মা আমিও কথা দিয়েছি,,দয়া করে তুই মানা করিস না।
।
আমাকে কখনোই মামা বা অন্য কেউ আদর করে নি,,আদর করে কাছে টেনে নেয় নি,,কেউ ভালবাসে নি,,ভালবেসে কিছু চায় নি।
যখন দরকার পরত তখন এমন ভাবে ডাকতো মনে হয় কোন কুকুরের বাচ্চাকে ডাকছে😥😥
আজ এতটা ভালবাসা আমি ফিরিয়ে দিতে পারি নি,, কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই বিয়েতে রাজি হয়ে যাই,,যদিও বিয়ে কি সেই বিষয়টাই আমি জানি না তেমন একটা। তবুও বড় মামার আবদার রক্ষা করতে রাজি হয়ে যাই,,তবে এতটুকু বুঝতে পারছি বিয়ে হলে আমাকে আমার স্বামীর বাড়ি চলে যেতে হবে,, নতুন সংসার নতুন সব কিছু।
আমার রাজি হওয়ার বিষয়টা উনাদের জানানো হয়।
সেই রাতেই বিয়ে শেষে উনাদের সঙ্গে আমাকে নিয়ে যান,
ইয়া বড় মস্ত বাড়ি,,নিজস্ব গাড়ি,,অনেক গুলো চাকর চাকরানী এই বাড়িতে,, দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক ধনী পরিবার,, নিজেকে খুবই ছোট মনে হচ্ছে,, কিভাবে মানিয়ে নিবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি,,আর এর মধ্যে আমাকে একটা রুমে ঢুকিয়ে দেওয়া হল,,
ফুলে ফুলে সাজানো গোছানো একটি বিছানার উপর বসিয়ে দেওয়া হল আমাকে,,জানি না কি জন্য বা কি কারনে বুকটা ধুকপুক করছে,, হার্ট অ্যাটাক হবে মনে হচ্ছে।
লোকজন পুতুল দেখার মতন আমাকে দেখে যাচ্ছে, সবাই বলাবলি করছে পুতুলের মতন বউ।
লক্ষি বউ,, পরীর মতন বউ ইত্যাদি,, অথচ বাড়িতে থাকতে সকলেই অলক্ষি,ডাইনি, রাক্ষসী বলে ডাকতো,,সে সব ভেবে মনের অজান্তেই চোখের ভিতর থেকে টপটপ করে পানি পরে বুকটা ভিজে যাচ্ছে। সবাই অনেক মজা করছে,হাসাহাসি করছে,, আমারো মন চাচ্ছে কিন্তু কেনো জানি লজ্জায় করতে পারছি না।
এভাবে থাকতে থাকতে রাত প্রায় ১২ টা বেজে গেল।
কেউ একজন এসে বললো,
ঐ তোরা কি এবার বউটা কে একা থাকতে দিবি।
তাছাড়া সায়েমের আজ বাসর রাত🤭🤭
ওহহ বলতে ভুলে গেছি আমার বরের নাম সায়েম।
বাসর রাত কথাটা শুনতেই কেমন জানি ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো,, স্কুলে পড়ার সময় বান্ধবীরা অনেক আজেবাজে কথা বলতো বাসর ঘর নিয়ে,, একবার শুনেছিলাম,, সেই থেকে সবচেয়ে ঘৃণার বিষয় হচ্ছে বাসর রাত আমার চোখে আর এরা কিনা বলছে সায়েমের আর আমার বাসর ঘর🙉
কেনো জানি লজ্জা পাচ্ছি,, একটু পরে সবাই চলে গেল আর সায়েম মানে আমার বরটা রুমের দরজা লক করে দিল,,যাওয়ার মানে লক করার আগে একটা মেয়ে হয়তোবা ননদী হবে,,সে এসে কানের কাছে কি কি যেন বললো,ছি কি লজ্জা কি লজ্জা,, এসব কথা কেউ বলে.?? আমিতো লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি,, না পারছি কিছু বলতে না পারছি সহ্য করতে।
যাইহোক সায়েম আস্তে আস্তে আমার কাছে এসে আমার পাশে বসলো,,
আমার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে,, ধম বন্ধ হয়ে আসছে,,
আমার ঘোমটা টেনে আমাকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে,,আমি না পারছি কিছু বলতে না পারছি এভাবে থাকতে,,ঘেমে চৌচির হয়ে গেছি,,অবস্থা টের পেয়ে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিল সায়েম।
কাছে এসে কপালে চুমু দিতেই সারা শরীরে কারেন্ট প্রবাহিত হয়ে গেল,, এরপর কি বললো তা খেয়াল করি নি কিংবা মনে নেই আমার কিন্তু যাই বলুক তাতে যে না বুঝেই হ্যা বা হুমম বলেছি ততটুকু মনে আছে,,এরপর বিয়ে বা বাসর ঘর সম্পর্কে অভিজ্ঞতা হল,,
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি.???
part_8
season_3
আমার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে,, ধম বন্ধ হয়ে আসছে,,
আমার ঘোমটা টেনে আমাকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে,,আমি না পারছি কিছু বলতে না পারছি এভাবে থাকতে,,ঘেমে চৌচির হয়ে গেছি,,অবস্থা টের পেয়ে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিল সায়েম।
কাছে এসে কপালে চুমু দিতেই সারা শরীরে কারেন্ট প্রবাহিত হয়ে গেল,, এরপর কি বললো তা খেয়াল করি নি কিংবা মনে নেই আমার কিন্তু যাই বলুক তাতে যে না বুঝেই হ্যা বা হুমম বলেছি ততটুকু মনে আছে,,এরপর বিয়ে বা বাসর ঘর সম্পর্কে অভিজ্ঞতা হল,,
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি সায়েমের বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলাম,,লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে,, ছিহহহ কি লজ্জা কি লজ্জা 🙈🙈
তড়িঘড়ি করে উঠতে যাবো তখনই সায়েম জেগে যায় ঘুম থেকে।
আমার উঠতে দেখা দেখে আর লজ্জা মাখা মুখ দেখে আরো লজ্জায় ফেলার জন্য বুকের উপর আরো শক্ত করে চেপে ধরে চুমু খায় কপালে,, এরপর আমাকে উপর থেকে নিচে নামিয়ে নেয় এরপর 🙈🙈🙈🙈🙈
যাইহোক আম্মু মানে শাশুড়ী মার কথা মতন নানদীদের ডাকাডাকিতে বিছানা ছেড়ে উঠতে হয়।
গোসল করে ফ্রেশ হয়ে বাহিরে আসলাম,,
অনেকেই এসেছেন আমাকে দেখতে।
রাতে হুটহাট বিয়ে, তাই অনেক আত্মীয় স্বজনরা আসতে পারেন নি,,একে একে সবাই আসছেন।
সবাই আমাকে দেখে মুগ্ধ,, সবাই প্রসংশা তারিফ করছেন।
সকলের ভালবাসায় মনে হচ্ছে আগের না পাওয়া সকল সুখ,,পাওয়া সকল কষ্ট এক নিমিষেই ভুলে গেছি।
ভালবাসা কি তা বুঝতে পারছি টের পাচ্ছি।
সুখে মনটা ভরে উঠলো,,
প্রথম দিনেই শাশুড়ী মা জোর পূর্বক ঘরের চাবি আমার আচলের গোছায় বেঁধে দিলেন।
এ এক মেয়ের জন্য যে কত বড় পাওয়া তা বলে বুঝাতে পারবো না।
এত সুখের মধ্যেও যে কষ্ট আসতে পারে তা কল্পনা করি নি কখনো।
কিছুদিন যেতে না যেতেই শাশুড়ী মা যখন শুনলেন আমি এতিম,,মামা বাড়ি থেকে বিয়ে দিছেন সেখানে তারা চাকরানীর মতন করে রাখতেন,, আমার বাবা আরেক জায়গায় বিয়ে করেছেন,, এগুলো শুনার পর থেকে আমাকে ঘৃনার চোখে দেখেন।
সব সময় ছি ছি করেন,,এমন একটা ব্যবহার করেন আমি যেন মানুষের কাতারেই পরি না।
যদিও প্রথম দিকে মুখ ফুটে বলতেন না,,কিন্তু আস্তে আস্তে তা মুখ ফুটে বলতে শুরু করলো।
উনি ব্যাতিত সবাই ঠিক,,যদিও কষ্টটা অনেক কিন্তু তবুও মেনে নিচ্ছি বাকি সবার মুখ দেখে।
সায়েমের কাছে কখনো বলি নি এ বিষয়ে,কারন সায়েম শুনলে আম্মুর সাথে রাগারাগি করবে,, ঝগড়া করবে আমি চাই না আমার জন্য মা ছেলের মধ্যে কোন সমস্যা হোক,, আমার শশুর মশাই মাঝেমধ্যে শুনে প্রতিবাদ করেন কিন্তু উনি শাশুড়ী মার সাথে কথায় পারেন না।
সব সময় আমার কাছে এসে স্বান্তনা দেন।
এটাই আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্য।
,,
সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে সায়েমের ভালবাসা আমাকে সব ভুলে শত কষ্ট সহ্য করে থাকতে সহজ করে দেয়।
সায়েমের ভালবাসা পেলে আমার আর কিচ্ছু লাগবে না,, না লাগবে টাকা পয়সা না লাগবে অন্য কারোর ভালবাসা।
এর মাঝে বড় মামা দুই একবার এসে দেখে গেছেন কিন্তু অন্য কেউ আসে নি ভুলেও।
এভাবে দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর পার হয়ে যায়।
হঠাৎ একদিন খুব বমি হয় আমার।সাথে মাথা ঘুরচ্ছে,,মাথা ব্যাথা,হঠাৎ করেই জ্বর।
সায়েম অফিসে ছিল,, শাশুড়ী মার কাছে যাওয়ার কোন অনুমতি নেই আমার।
শশুর মশাই ও বাড়ি নেই,,কি যে করি,,,
রুমে একা একা বসে কান্না করছি আর আল্লাহ পাক কে ডাকছি।
কতক্ষণ পর যে অজ্ঞান হয়ে গেছি তা জানি না।
যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি আর আমার চারদিকে বাড়ির সবাই ঘিরে ধরে আছে,,সায়েম আমার ডান হাতটা চেপে ধরে রেখেছে।
একেকজন এমন কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে আছে যেন কি না কি হয়েছে আমার,,
এদের তাকানো দেখে আমিও ভয় পেয়ে যাচ্ছি,
মনের কোনায় কোথায় থেকে যেন এক টুকরো কালো মেঘ এসে অন্ধকারে ডেকে দিল।
এমন ভাবে তাকিয়ে আছে তাতে মনে হচ্ছে আমার,,,,,না ভাবতে পারছি না,,নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি ঝরছে,,হঠাৎ করেই ডাক্তার সাহেবের আগমন,,,
ডাক্তারঃ-
ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং
আমার মানে আমি কৌশিক আহমেদ,,, আমার ফোন বেজে উঠল,, ডাক্তার কি জানালো বা কি খবর নিয়ে আসছে তা আর দেখা হল না।
ফোনটা পকেট থেকে বের করে দেখি স্নেহা মানে আমার স্রী ফোন করেছে।
ওরে আমার লক্ষি বউটারে,,পরী বউটা রে,,
এখানে এসে তো ভুলেই গিয়েছিলাম লক্ষিটির কথা।😥😥😥
আসলে মিশনে থাকলে এমনি হয়,,তারমধ্যে ভৌতিক মিশন বলে কথা।
ফোনটা রিসিভ করেই,,
।
আমিঃ- সরি লক্ষিটি, কলিজাটা,,কাজের চাপে ফোন দিতে পারি নি(কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কথা গুলো বললাম)
।
স্নেহাঃ- হইছে হইছে তুমি আর একটাও মিথ্যা কথা বলবা না বলে দিলাম😥😥😥
তোমাকে আমার চেনা হয়ে গেছে 😥😥
আজকে তিনটা দিন পার হয়ে যাচ্ছে অথচ একটাবারো খোজ খবর নেওয়ার প্রয়োজন বোধ কর নি তুমি,,আমাকে কোন অবস্থায় রেখে গেছো তা জানা স্বত্বেও একটা বার ফোন কর নি😥😥
আমি মরে গেলে বুঝবা তুমি আমি কি ছিলাম তোমার জীবনে।😥😥😥
।
স্নেহার মুখে মরে যাওয়ার কথা শুনে বুকটা কেপে উঠে,, এমনিতেই এই কেয়া নামে যে মেয়েটা ছিল তার মা তো জন্মের সময় মারা গেছিল সেই কথা আর স্নেহা প্রেগন্যান্ট সব মিলিয়ে ভয়ে আতংকে কেঁপে উঠলাম।
ধমক দিয়ে,,,
।
আমিঃ- আমার ভুল হইছে তা শিকার করছি কিন্তু ভুলেও যদি এমন কথা আরেকবার বল তাহলে আমি কতটা খারাপ হতে পারি তা তোমাকে বুঝাবো।😥😥😥😡😡😡
।
স্নেহাঃ- তাহলে খোঁজ নিলা না কেনো.??
।
আমিঃ- সরি লক্ষিটি,, আসলে,,,পরে সব বিস্তারিত খুলে বললাম,,সব শুনে স্নেহা বললো,,,
।
স্নেহাঃ- হুমম বুঝতে পারছি আমার বরটা তাহলে ভুতের সাথে প্রেম নিয়ে বিজি,,তাই তো বলি আমাকে ভুলে গেল কিভাবে 🤭🤭
।
আমিঃ- দেখো ফাইজলামি করবা না বলে দিলাম,, এমনিতেই টেনশনে আছি,, তাছাড়া ডায়েরিটা শেষ হয় নি পড়া,,আগে পড়ে নেই পরে ফোন দিচ্ছি।
।
স্নেহাঃ- ঐ শুনো শুনো,,,
।
আমিঃ- হুমম বল,,
।
স্নেহাঃ- আজকে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম পরামর্শের জন্য।
।
আমিঃ- ওহহহ হে ভুলেই গেছি,,
তা কি বললো ডাক্তার।
।
স্নেহাঃ- তেমন কিছু বললো না,,শুধু বললো তোমাকে ফোন দিতে বলি যেন।
তুমি একটু ডাক্তারকে আঙ্কেল কে ফোন কর তো,,আমার কেমন জানি বুকটা ধুকপুক করছে।
ভয় ভয় লাগছে,,
।
আমিঃ- আরে ধুর পাগলি কিচ্ছু হবে না,,প্রথম বার বেবি হবে তো তাই অযথা ভয় পাচ্ছো।
সমস্যা নেই আমি ডাক্তার আঙ্কেলকে ফোন করবো,,তুমি আম্মুর কাছে গিয়ে বসে গল্প কর।
আর হে টেনশন কর না,,,বাবুর প্রতি লক্ষ রাখবা বলে দিলাম,,কোন ভারি কাজ করবা না ওকে..??
।
স্নেহাঃ- আচ্ছা ঠিক আছে,, তুমিও নিজের খেয়াল রেখো আর ডায়েরিতে শেষ পর্যন্ত কি পাও তা জানিও আর কোন সমস্যা হলে অবশ্যই জানাবে,, আল্লাহ হাফেজ ভালো থেকো।
।
আমিও আল্লাহ হাফেজ বলে রেখে দিলাম।
ডায়েরিতে চোখ ভুলাইলাম।
ডাক্তার সাহেবের আগমন,,
ডাক্তারঃ- অভিনন্দন সায়েম সাহবে,,
আপনি বাবা হতে চলেছেন।
শশুর শাশুড়ী কে জানালো উনারা দাদা দাদি হতে চলেছেন,,খুশিতে সবাই আত্মহারা,,সায়েম আমাকে সবার সামনেই জড়িয়ে ধরে চুমু দিলো এদিকে লজ্জায় আমি শেষ,, যখন সায়েম বুঝতে পারলো নিজের বোকামি তখন সায়েম ও লজ্জায় শেষ,, সবাই টের পেয়ে চলে গেল রুম থেকে।
দুইজনের মাঝে অনেক কথা হল,,
সায়েম আজ খুবই হ্যাপি,, সঙ্গে আমিও,, সেই রাতেই বাসায় চলে আসলাম।
এদিকে নাতি নাতনি হবে জেনে আমার শাশুড়ী মা পরিবর্তন হয়ে গেছেন।
সব সময় আমার ভাল মন্দ খোজ খবর নিচ্ছেন।
মোট কথা পুরো বাড়ি সুখে ভরে উঠলো।
তিনদিন পর শাশুড়ী মা দুইটা টিকিট নিয়ে এসে আমার আর সায়েম কে দিল,,
ওয়াও সাজেক ভ্রমণ 🙉🙉🙉
সাজেকের কথা অনেক বার শুনেছি অনেকের মুখে,,দেখার খুবই আগ্রহ ছিল কিন্তু সব তো জানেন 😥😥😥কখনো কোন আশা পূরণ হয় নি।
তবে আমার ঘুরাঘুরি করার খুব সখ,,ও হে আরেকটা সখ আছে,তা হচ্ছে গল্প পড়া,,আমি সময় পেলেই আমার মামাতো বোন বা ভাইদের সংগৃহীত গল্পের বই গুলা পড়তাম,,যদিও এর জন্য অনেক বকা শুনতে হইছে😥😥আরেকট সখ সেইটা হচ্ছে ডায়েরি লেখা।
আমার প্রতি দিনের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো একটা ডায়েরিতে লিখে রাখি।
যেমন এখনো লিখছি,,,যাইহোক শাশুড়ী মা আমাকে আর সায়েমকে ডেকে টিকিট দিয়ে বললেন,,,
আম্মাঃ- বউ মা তোমরা বিয়ের পর তো কোথাও ঘুরতে যাও নি এখনো পর্যন্ত,,, তাই নাতি নাতনি আসবে সেই খুশিতে আমার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য ছোট্ট একটা উপহার।
পুরো এক মাসের জন্য ঘুরতে বেরিয়ে পর ইনশাআল্লাহ।
আর হে তোমাদের প্রয়োজনীয় সকল কাপড়চোপড় পেকিং করে রেখেছি,, কাল বিকালের গাড়িতেই রওনা দাও,,সব ব্যবস্থা করা আছে।
।
কথা গুলো শুনে খুশিতে মনটা নেচে উঠলো দুইজনেরই,,কিন্তু বাবার মুখটা কেমন জানি মলিন লাগছে,,উনি সন্তুষ্ট নন আমাদের যাওয়াতে।
সায়েম খুশিতে আত্মহারা হয়ে রুমে চলে গেল,, আম্মাও উনার রুমে চলে গেলেন,,আব্বা কাছে এসে বলছেন,,
।
আব্বুঃ- মা,,আমার কাছে তোমার শাশুড়ী মা এর হঠাৎ পরিবর্তনটা কেমন জানি অস্বাভাবিক লাগছে।
না গেলে কি হয় না.??
।
আমিঃ- সে যাই বলেন আব্বু,,, আম্মু কতদিন পর আমাকে মেনে নিছেন আর আমি সেই সুযোগ নষ্ট করে উনাকে কষ্ট দিতে পারবো না।
তাছাড়া আপনার দোয়া থাকলে ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবে না তাছাড়া সায়েম তো আছেই।
।
আব্বুঃ- যা ভালো মনে কর,,কিন্তু আমার মতামত জানালাম।
।
আব্বা কথা গুলো বলার পর আমার কাছেও কেমন জানি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে কিন্তু কিচ্ছু করার নেই এমনিতেই আম্মা আমাকে সহ্য করতে পারেন না,,এই সময় মেনে নিছেন,,যদি মানা করে দেই তো পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে।
যাইহোক আব্বুকে বুঝতে না দিয়ে চলে আসলাম।
যথা সময়ে গাড়ি ছাড়লো,,আমাদের ছাড়তে স্টেশন পর্যন্ত আব্বু আম্মু এসেছেন,,উনারা বিদায় দিয়ে চলে যাওয়ার পর সায়েমের কাধে মাথা রেখে শান্তিতে হেলেদুলে চলছি,,হিহিহিহি মানে গাড়ি চলছে।
সাজেক পৌঁছাতে পৌঁছাতে ভোর হয়ে গেছে।
সকালে হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে হোটেল থেকে কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে নিলাম দুইজনে,, ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই বিকাল🙉🙉
দুপুরের খাবার নেই কিচ্ছু নেই ঘুমে ঘুমে সারাদিন পারি করে দিলাম🙉🙉
যাইহোক হাল্কা পাতলা খেয়ে বাহিরে বের হলাম,,কি সুন্দর জায়গা,, কি মনোরম পরিবেশ,,মন শান্তিতে ভরে উঠলো,, এ যেনো পৃথিবীতেই সর্গ।
মেঘ যেন ঘর গুলাতে আছড়ে পরেছে,,হাত দিয়ে মেঘ ধরা যাবে।
মাঝেমধ্যে মনে হয় পাহাড় গুলো মেঘ বেদ করে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে আবার কখনো মনে হয় মেঘ এসে পাহাড়ে আটকে যাচ্ছে।
যাইহোক সেখানে সাত দিন অবস্থান করার পর সেখানে থেকে আরেকটু বাহির সাইটে থাকবো বলে সায়েম মনস্থির করলো সায়েম, আমিও হ্যা বলে সম্মতি দিলাম।
পরের দিন সাজেক ইউনিয়নের একদম শেষ প্রান্তে একটা গ্রামের দিকে একটা বাসা ভাড়া করলো ১ সপ্তাহের জন্য। (বর্তমানে আমি যেটাতে আছি)
সেখানে এসে আমার প্রথম থেকেই প্রচুর ভয় লাগে।
কেন লাগে জানি না,,যদিও সৌন্দর্যের দিক দিয়ে কোন তুলনা হয় না কিন্তু তবুও কেমন জানি ভয় লাগে।
আশেপাশে কেউ নেই,,অনেক দূর দূর বাড়ি।
জনবসতি নেই বললেই চলে,, অপরিচিত এলাকা,,আমরা মাত্র দুইজন স্বামী স্ত্রী বিষয়টা ভাবতেই কেমন জানি ভয়ে আতংকে গা শিউড়ে উঠে।
যাইহোক আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারী,, ২০১২
শুনেছি এটা নাকি ভালবাসা দিবস,,
হিহিহিহি কোন দিন তো ভালবাসা নামক বস্তু বা শব্দের সাথে পরিচিত হয় নি,,কিন্তু বিয়ের পর এটাই আমাদের জীবনের প্রথম ভালবাসা দিবস,,
আমি মনে মনে সায়েমের জন্য অনেক কিছু কল্পনা কনে রেখেছি,,আজকে আমি নিজেই প্রপোজ করবো🙈🙈🙈যদিও আমরা স্বামী স্ত্রী,, কিন্তু তবুও করবো,,যে আমার জীবনটা সুখে সুখে ভরিয়ে দিয়েছে,🤗🤗 যে আমার স্বপ্নহীন জীবনে স্বপ্নের বিজ বুনেছে,,যে আমার আশা ছাড়া নিরাশার মেঘে ডাকা জীবনে আশার এক পশলা হাসি নিয়ে এসেছে,,যে আমার কষ্টের অন্ধকার জীবনে সুখের প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে তাতে নিসন্দেহে ভালবাসার কথা বলা যায় সকল লজ্জা সরম ভেদ করে,,যদিও প্রকাশ করা হয়ে গেছে সেই বাসর ঘরে থেকেই 🙈🙈🙊🙊
যাইহোক আমার ইচ্ছে আজকে ফিল্মি স্টাইলে সায়েমকে প্রপোজ করবো,,সায়েমের মনেও হয়তো একইরকম কিছু ঘুরপাক খাচ্ছিলো তাই বিকাল হতে না হতেই বেরিয়ে গেছে, সন্ধা পার হয়ে গেছে অথচ এখনো আসছে না।😡😡
কেমনডা লাগে বলুন তো.??😡😡
কত সুন্দর করে সেজেগুজে বসে আছি,, নীল শাড়ি পড়েছি,কালো টিপ দিয়েছি,,খোঁপায় দিয়েছি ফুল🙈🙈আজ নিজেকে নিজে দেখেই হিংসা হচ্ছে,, বিদাতা এত সুন্দর করে বানালো কেন🙆♀️🙆♀️
।
যাইহোক অপেক্ষার সময় কাটে না।
বিরক্ত হয়ে বসে বসে ডায়েরির কাজটা এগিয়ে রাখছি,,সায়েম আসলেই ভিতরের রুমে নিয়ে গিয়ে হাটু গেঁড়ে প্রপোজ করবো ফুল দিয়ে,, ফুলটাও রেখে দিছি যত্ন করে।
এরমধ্যেই কলিং বেল বেজে উঠল,, এই তো সায়েম আসলো বুঝি,,আচ্ছা আপনাদের সাথে পরে কথা হবে আগে মহারাজকে রুমে নিয়ে প্রপোজ করি,,তারপর,,,,,,,,,,,,
কি বেপার এর পর..???????????
সিজন তিন এ কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা লিখবো,সব চেইন্জ করে তছনছ করে দিবো সিজন ১বা ২ এর। যা পড়ে হয়তোবা আপনারা কষ্ট পাবেন কিন্তু তবুও গল্প গল্পের মতন চলতে দিলে খুশি হবো।
part_9
season_3
যাইহোক অপেক্ষার সময় কাটে না।
বিরক্ত হয়ে বসে বসে ডায়েরির কাজটা এগিয়ে রাখছি,,সায়েম আসলেই ভিতরের রুমে নিয়ে গিয়ে হাটু গেঁড়ে প্রপোজ করবো ফুল দিয়ে,, ফুলটাও রেখে দিছি যত্ন করে।
এরমধ্যেই কলিং বেল বেজে উঠল,, এই তো সায়েম আসলো বুঝি,,আচ্ছা আপনাদের সাথে পরে কথা হবে আগে মহারাজকে রুমে নিয়ে প্রপোজ করি,,তারপর,,,,,,,,,,,,
কি বেপার এর পর তো পেইজ খালি,,একটাও কলমের ফোটা নেই। বাকি সব পৃষ্ঠা গুলা উলোটপালোট করেও একটা অক্ষর ও পেলাম না।
মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে,,,
তাহলে বাকি কাহিনি কই পাবো.??
কি ঘটেছিল পরে,,,টেনশনে অস্থির হয়ে যাচ্ছি।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে।
মনের ভিতর হাজারো কৌতূহল, হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়।
।
নাহহহ কিচ্ছু ভালো লাগছে না।
ডায়েরিটা রেখে বাহিরে চলে আসলাম,, ২০ মিনিটের মতন হাটলে কয়েকটা টং দোকানের মতন বাজার পাওয়া যায়,, শুনেছিলাম গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে নাকি চা স্টল খোলা পাওয়া যায় বা খোলা থাকে,,মাথাটা যেহেতু ভনভন করছে তাই চা পান করার জন্য বেরিয়ে বাজারের দিকে রওনা দিলাম।
হাটতে হাঁটতে ২২ মিনিট পরে সেই বাজারে গিয়ে পৌছালাম।
রাত তখন ৮.৪৩ বাজে,,বাজার এখনো মানুষে পরিপূর্ণ,, অনেক মানুষের আনাগোনা।
আমি একটা চা স্টলে গিয়ে একের পর এক চা পান করছি আর যদিও তেমন একটা সিগারেট খাওয়া হয় না তবুও একের পর এক সিগারেট জ্বালিয়ে ফুঁকছি,,
যাতে মনের ভিতর হাজারো কৌতূহল আর প্রশ্ন গুলার কারনে যে অস্থিরতা লাগছে সেই থেকে মুক্তির জন্য আর যদি মাথা ঠান্ডা হয় আর ঠান্ডা মাথায় যদি কোন বুদ্ধি বেরিয়ে আসে তাই।
।
দেখতে দেখতে রাত প্রায় ১২ টা বেজে গেছে,,
একটু পরেই কটেজ বা বাড়িটা ভুতের আস্থানা হয়ে যাবে,, সম্পূর্ণ বাড়িটা মৃত্যুকুপে পরিনত হবে,,আলোর চিন্হ পর্যন্ত থাকবেনা।
নিকোশ কালো অন্ধকার নেমে আসবে বাড়ির উপর।
গা ছমছমে পরিবেশে রূপ নিবে বাড়িটা,,সেখানে গিয়ে একে তো মনের অস্থিরতার জন্য নিজের চলার মতন বুদ্ধি বের হচ্ছে না তারমধ্যে আবার ভুতপ্রেতের আক্রমণ,, আজ কি করে টিকবো ঐ বাড়িতে সেই টেনশনে পরে গেলাম আবার না গেলেও কোন সুরাহা হবে না।
।
আস্তে আস্তে বাজারের লোকজন বাড়ির দিকে যেতে যেতে বাজার প্রায় শূন্য হয়ে গেছে।
গুটিকয়েক মানুষের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে বাজারের ভিতর।
যে কয়েকজন আছে তারাও বাড়ি ফিরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দোকানী গুলাও দোকান গোছানো শুরু করছে।
এখন আমারো উঠতে হবে,,যে চা স্টলে আড্ডা দিচ্ছিলাম সেখানে আরো ৩-৪ জন কাস্টমার ছিল। মাত্র উঠে রওনা দিবো,,,সেখান থেকে একজন,,
প্রথমজনঃ- স্যার কিছু না মনে করলে একটা প্রশ্ন করবো?? (ঐ ৩-৪ জনের মধ্যে একজন ভদ্রলোক কথাটা জিগ্যেস করলেন)
।
আমিঃ- জি হা বলুন কি বলবেন.??
।
ঐ ব্যাক্তিঃ-আপনাকে তো এই গ্রামের মানুষ মনে হচ্ছে না তাছাড়া এখানে এর আগে দেখেছিও বলে মনে হচ্ছে না।তাহলে আপনি কি কোন বাড়িতে মেহমান হয়ে এসেছেন.??
।
আমিঃ- ওহহহ এই কথা,,,
না ভাই আমি কোন বাড়ির মেহমান নই,,
।
দ্বিতীয়জনঃ- তাহলে স্যার আপনি কি এখানে ঘুরতে এসেছেন.??
।
আমিঃ- ঠিক তাও না,,তবে কিছুটা ঐরকম ই।
।
এবার দোকানী মুখ খুললেন,,
দোকানীঃ- স্যার আপনার কথা গুলা কেমন জানি রহস্য রহস্যময়,, সত্যি করে বলুন তো আপনি কে আর কোথায় এসেছেন।
।
আমিঃ- হাহাহোহো রহস্যের কিচ্ছু নেই,, আমি এখানে একটা কেস নিয়ে এসেছি।
আমি ঢাকাতে ডিবি পুলিশে চাকরি করি।
।
ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা শুনেই সবাই ভয়ে আতংকে জড়সড় হয়ে গেছে ভয়ে।
তাদের সান্ত্বনা দিয়ে, নির্ভয় দিয়ে,,,
।
আমিঃ-ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই আমি ভিন্ন ধর্মি একটি কেস নিয়ে এই এলাকাতে এসেছি।
আপনাদের গ্রামের ঐ দিকে(কটেজটার দিকে আঙুল তুলে,হাত ঐ দিকে দেওয়া দেখেই সবগুলার চোখ বড়বড় করে কপালে তুলে হা করে তাকিয়ে দেখছে)যে বাড়িটা আছে, সেই বাড়িতে নাকি যে যায় বা থাকে সেই নাকি মারা যায় কিংবা এমন কোন সমস্যা হয় তাতে কি হইছে বা কি ঘটে তা বলার মতন অবস্থায় থাকে না,,তাই ঐ বাড়িটা নিয়ে তদন্ত করতে এসেছি।
।
আমার কথা গুলো শেষ হতে না হতেই দুই জন দৌড়ে পালালো,,
এখন আছে একজন দোকানী, আর দুইজন যে প্রথমে কথা বলছিল আরেকটা ব্যাক্তি যে প্রথম থেকেই নির্বাক হয়ে কথা শুনছেন,এমন ভাবে শুনছেন মনে হচ্ছে কোন রূপকথার গল্প বলছি আর উনি তা মুখস্থ করবেন।
।
দোকানীঃ-স্যার আপনার কি মাথা খারাপ.??
আপনি জানেন না ঐটা ভুতের বাড়ি,, ডাইনী রাক্ষসী পিশাচীনিদের আঁতুড় ঘর ঐটা।
আর আপনি কিনা ঐ বাড়ির তদন্ত করতে এসেছেন.??
।
প্রথম ব্যাক্তিঃ- স্যার,, বাড়ির ছেলে বাড়ি ফিরে যান,,তাছাড়া জীবনে বেঁচে থাকলে অনেক কেস নিয়ে তদন্ত করতে পারবেন কিন্তু যদি মরে যান তাহলে 😥😥
স্যার,, যতটুকু চিন্তা করছেন ততটুকুকেই সীমাবদ্ধ থাকেন।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা কইরেন না স্যার।
রাত তো দূরের কথা দিনের আলোতেও চার পাচ জন ঐ দিকে যাওয়ার সাহস করে না,,,আর আপনি তো একা,, তাও গভীর রাত।
।
দোকানীঃ- আচ্ছা স্যার যা হয় ভালোর জন্যেই হয়,,ভাগ্য ভালো যে আমাদের কাছে বলছেন।
আপনার আর ঐ বাড়ির বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে না,,আপনি বরং আমার সাথে এখানেই আমার দোকানে থাকেন।
সকাল হলে বাড়ি ফিরে যাবেন।
।
একেকজনের একেক মতামত শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে,, বুঝতে পারছি সবার মনে বাড়িটা নিয়ে প্রচুর ভয় আর আতংক কাজ করেন।
তবুও,,,,,,
আমিঃ- দেখেন পৃথিবীতে আমি একমাত্র আল্লাহ পাক ছাড়া আর কারোর উপর ভয় করি না।
আল্লাহ পাক সাথে থাকলে ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবে না।
।
প্রথম ব্যাক্তিঃ- স্যার আপনার কথায় যুক্তি আছে,, তাই বলে জেনে শুনে আগুনে ঝাপ দিয়ে যদি বলেন আল্লাহ পাক আছেন,আল্লাহ পাক বাঁচাবেন,, তাহলে কি হল..??
দয়া করে পাগলামি করবেন না,,আপনি শিক্ষিত মানুষ, সরকারি চাকরি করেন,,সবকিছুই সাইন্স আর যুক্তি দিয়ে বিচার করার চেষ্টা করেন,,কিন্তু সাইন্সের বাহিরেও অনেক কিছু ঘটে দুনিয়াতে যা কোন যুক্তি দিয়ে সল্ভ করা সম্ভব না।
।
আমিঃ- দেখেন আমি ঐ বাড়িতে আজ বাদেও গত দুই রাত কাটিয়েছি একা একা,,,আর এখানে আসছি তাও ঐ বাড়ি থেকেই আসছি।
।
কথাটা বলতে দেরি,,সামনের সবার দৌড় দিতে দেরি হল না,,দোকানী দোকান রেখে, প্রথম ব্যাক্তি বাজারের ব্যাগ রেখেই দে ছুট,, এক দৌড়ে অন্ধকারের মধ্যে চোখের আড়াল হয়ে গেল।
কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলো যে ব্যাক্তি এখন পর্যন্ত কোন কথা বলে নি সে এখনো আগের মতন চুপচাপ বসে হা করে সব শুনছেন।
বিষয়টা কেমন যেনো লাগলো আমার কাছে,,,
এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যা বিব্রতকর ব্যাপার।
যাইহোক সবাই যেহেতু চলেই গেছে ভয়ে,,এখানে আর থেকে কি করবো,,তাছাড়া যে সামনে আছে সে তো কোন কথাই বলে না,,হয়তো বোবা, কানে শুনে না,,কথা বলতে পারে না।
যাইহোক আমি সেখান থেকে উঠে বাড়িটার দিকে রওনা দিলাম,, কিন্তু সত্যি বলতে বুকটা ধুকপুক করছে।
একে তো একেকজনের ভয়ের অবস্থা দেখে নিজেও ভয় পাচ্ছি, হাজার হলেও মানুষ তো,,আরেকদিকে রাত তো অনেক,,তারমধ্যে পাহাড়ি রাস্তা বনজঙ্গলের ভিতর দিয়ে যেতে হবে,,পা ছিটকে গেলেই জীবন শেষ, তারমধ্যে যেহেতু হেটে যেতে হবে,,সাপ পোকা বা অন্য কোন জীবজন্তুর ভয় তো আছেই,,তাছাড়া যেহেতু পাহাড়ি এলাকা তাই শান্তিরক্ষী নামক কিছু মানুষ নামের অমানুষ আছে যারা আইনের লোক পেলে তাকে আর জ্যন্ত রাখে না।
কিন্তু যতই ভয় পাই,,সত্যি যাচাই-বাছাই করতে তো যেতেই হবে।
আস্তে আস্তে হেঁটে যাচ্ছি পাহাড়ি রাস্তা ধরে মোবাইলের ফ্লাশ জ্বালিয়ে।
চারিদিকে ঝিঁঝি পোকার ডাক কানের ভিতর দিয়ে ঢুকে কলিজাতে আগাত করছে।
হঠাৎ হঠাৎ শিয়াল বা অন্য কোন প্রাণীর বিকট শব্দ,,আত্মা বেরিয়ে যাবে যাবে অবস্থা।
শীতের রাত,,এমনিতেই ১৫-২০ হাত দুরে কি আছে তা দেখা যায় না তারমধ্যে অলৌকিক আর লৌকিক সব ভয়ের ছাপ অন্তরে।
হঠাৎ করেই কানে ভেসে আসে নিশির ডাক,,
কানে আসতেই চুপচাপ সেই জায়গায় দাড়িয়ে এক মুট মাটি হাতে তুলে নিয়ে চার কুল পড়ে চারিপাশে ছিটিয়ে বৃত্তাকার করে নিলাম,,আর সরই বৃত্তের ভিতর বসে মনে মনে আয়তুল কুরসি পাঠ করছি।কারন নিশির ডাক খুবই ভয়ানক একটা বিষয়।
যাকে উদ্দেশ্য করে ডাকা হবে তার কানে পৌছালে সে আস্তে আস্তে তার কব্জায় চলে যায় আর তার ডাক অনুসরন করে যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা সেখানে চলে যায় আর গেলে সেখানে তাকে মেরে ফেলা হয় তাই আপাতত নিজেকে সেইফ করে নিলাম।
যখন শব্দ বন্ধ হয়ে গেল তখন আবার হাটতে শুরু করলাম,,এবার আর নিশির ডাক না শুনলেও নতুন একটা বিষয় লক্ষ করলাম।
কেউ একজন আমাকে ফলো করছে।
আমার পিছু পিছু কেউ একজন হেটে আসছে।
ভালো করে কান পেতে বিষয়টা নিশ্চিত হলাম,,কিন্তু কে সে বা কি সে,,এমতাবস্থায় পিছনে তাকানো এড়িয়ে চলতে হয়,,তাই পিছনে ফিরে তাকালাম না,,কিন্তু এভাবে তো চলাও যায় না তাই একটা ঝোপ বুঝে দৌড়ে সেখানে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রইলাম,,,মোবাইলের ফ্লাশ অফ করে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আমার সামনে এসে হাজির,, কিন্তু যদিও মানুষ আকৃতির কিন্তু কি তা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে,, একে তো মেঘে ডাকা রাত,তারমধ্যে নিকোশ কালো অন্ধকার,, ঝোপঝাড় তাই ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিজের শরীর ই দেখা যায় না সেখানে তো,,,,
যাইহোক সে বুঝে উঠার আগেই মোবাইলের ফ্লাশ অন করে সে জিনিসটার মুখে ফেললাম আর তাতে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম সেটা ঐ মানুষটা যে দোকানে চুপচাপ বসে ছিল কোন কথাবার্তা বলতো না।
তখন থেকেই কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছিল আমার,, আর এখন চুরি করে পিছনে পিছনে যাওয়া।
বিষয়টা মোটেও সুবিধাজনক লাগছে না।
কোমড়ে থাকা পিস্তলটা বের করে লোকটার দিকে তাক করে ধরতেই মাটিতে পরে পা ধরে কান্নাকাটি শুরু করলো।
লোকটাঃ-স্যার,,,দয়া করে ভুল বুঝবেন না।
আপনি যা ভাবছেন আমি তা নই,,আমি মূলত আপনার কথাতে কৌতুহল বসত আপনার সাথে সাথে আপনার পিছু নিয়েছি,,আসলে কি ঘটে তা দেখার আগ্রহ বেশি আমার মধ্যে,, কারন আগের ঘটনাতেও আমি সাক্ষী ছিলাম যখন এই ঘটনার সুত্রপাত হয়।
আপনার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছিল আপনি অনেক সাহসী আর আপনি এর একটা বিহিত করতে পারবেন,,এর জন্য 😭😭😭😭
।
লোকটার কথা শুনে মনে হচ্ছে আমি যা ভাবছিলাম আসলে তা ভুল ছিল।
কিন্তু কি এমন সুত্রপাতের কথা জানে.??
আমার মনে হচ্ছে এর থেকে কোন একটা ক্লু পেলে পেতেও পারি।
তাই লোকটাকে জোর করে ধরলাম,,
লোকটা বলল আগে ঐ বাসায় আমাকে নিয়ে যান আপনার সাথে,, আমার খুবই সখ ঐ বাসায় থাকবো তাতে আমার মরন হোক বা না হোক,,কিন্তু কেমন জানি একা যেতেই পারি না,,,ভয় করে আবার ইচ্ছেও করে।
লোকটাকে নিয়ে হাঁটছি,, সোজা কটেজের গেটের সামনে আসতেই ভয়ংকর এক শব্দ কানে ভেসে আসলো।
এতটা বিকট শব্দ এর আগে কখনো আসে নি।
কেউ নাকি সুরে কান্না এবং হাসি দুইটা মিশ্রণে হাসছে বা কানছে,,মূলত কোনটা করছে তাই বুঝতে পারছি না,, এর সাথে যোগ হইছে একটা বাচ্চার হাসি,,যা এখন পর্যন্ত পাই নি,,গেটের পাট্টা সড়াতেই একটা বাচ্চা মেয়ে বল নিয়ে দৌড়ে চলে গেল বাড়ির ঘরের ভিতর। পিছনে পিছনে আমরাও দৌড়ে গিয়ে দেখি,,,,,.???
part_10
season_3
লোকটাকে নিয়ে হাঁটছি,, সোজা কটেজের গেটের সামনে আসতেই ভয়ংকর এক শব্দ কানে ভেসে আসলো।
এতটা বিকট শব্দ এর আগে কখনো আসে নি।
কেউ নাকি সুরে কান্না এবং হাসি দুইটা মিশ্রণে হাসছে বা কানছে,,মূলত কোনটা করছে তাই বুঝতে পারছি না,, এর সাথে যোগ হইছে একটা বাচ্চার হাসি,,যা এখন পর্যন্ত পাই নি,,গেটের পাট্টা সড়াতেই একটা বাচ্চা মেয়ে বল নিয়ে দৌড়ে চলে গেল বাড়ির ঘরের ভিতর। পিছনে পিছনে আমরাও দৌড়ে গিয়ে দেখি পুরো অন্ধকার রুম,সেখানে মোবাইলের ফ্লাশ জ্বালিয়ে দেখলাম কোন পিচ্চি তো দূরের কথা আমরা দুইজন ব্যাতিত একটা প্রাণীর অস্তিত্ব নেই।
দরজা দিয়ে ঢুকার পরেই গেস্ট বা হল রুম,,তন্নতন্ন করে খুঁজলাম সব জায়গায় কিন্তু কোথাও নেই পিচ্চিটা,,হঠাৎ কিচেন থেকে শুরু হল পিচ্চিদের কান্নার আওয়াজ,, দৌড়ে গেলাম, না সেখানেও নেই, হঠাৎ ওয়াশরুম থেকে মনে হচ্ছে মনে সুখে কোন পিচ্চি মেয়ে গোসল করছে আর লাফালাফি করছে,,দৌড়ে গেলাম সেখানে,,এমনিতেই কারেন্ট না থাকায় তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না তারমাধ্যে এসব,,না সেখানেও নেই,, পানির চিন্হ মাত্র নেই,, কিন্তু মাত্র তো পানি পরার শব্দ শুনতে পেলাম।
এদিকে আমার সাথে থাকা সেই লোকটা চুপিচুপি বলছে,,
লোকটাঃ- স্যার এভাবে হবে নন,,বরং আপনি এক স্থানে আমি আরেক স্থানে থাকি,,,
আমিও দেখলাম তাছাড়া তো আর কোন উপায় নেই,,এর একটা বিহিত করতেই হবে,,এত দিন মহিলার মতন কিছু একটা দেখছি কিন্তু আজ শুরু হইছে বাচ্চাদের সমস্যা,, রহস্য বের করতেই হবে এখানে কয়জন অশরীরি আছে আর তারা কেনো আছে কি চায়,,কেনো মারে মানুষদেরকে,,কি সমস্যা তাদের বিস্তারিত সব জানতে হবে।
কথা মতন দুই জন দুই জায়গায় দাড়িয়ে আছি,,
আমি কিচেনের দিকে আর ঐ লোকটা ওয়াশরুমের দিকে,,এবার শুরু হল আরেক কান্ড,, হঠাৎ শব্দ আসছে বেড রুম থেকে।
কিছু একটা খাওয়ার শব্দ, মনে হচ্ছে হাড়গোড় চিবিয়ে খাচ্ছে কেউ,,কড়মড় শব্দ, রাতের নিস্তব্ধতায় হাল্কা শব্দও অনেক বিকট আকার ধারন করে তারমধ্যে এরকম একটা ভৌতিক পরিবেশে তো কথাই নেই।
আস্তে আস্তে নিজের স্থান ত্যাগ করে বেড রুমে গিয়ে দেখি,,,,যে লোকটাকে আমি সাথে করে নিয়ে আসছি সে একটা বাচ্চার লাশের হাত পা টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে আর সেই ছিঁড়া একটা হাত মুখে নিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে আর তাতে কড়মড় শব্দ হচ্ছে,, সারা মুখে রক্ত লেগে আছে,,
আমাকে দেখে ভয়ংকর একটা হাসি হাসলো,, যে হাসিতে কোন শব্দ নেই কিন্তু তাহার চাহুনি আর শরীর ও মুখের অঙ্গ ভঙ্গি এমন যে,, যে কেউ সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাবে,, আমারো হওয়ার কথা কিন্তু কেনো যে হচ্ছি না তাই বুঝতে পারছি না।
হঠাৎ করেই কাঁধে পিছনে থেকে কেউ হাত দিল,,
এক লাফে ছিটকে সরে গেলাম কিছুটা দূরে,,মোবাইল হাত থেকে পরে গেল,,তড়িঘড়ি করে মোবাইল হাতে তুলে নিয়ে সেই দিকে ফ্লাশ মারলাম,,এ কি এ তো সেই লোক যাকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে আসছি,, তাহলে সামনে যে ছিল,, যে লাশ বা বাচ্চা খাচ্ছিল সে কে, সামনে লাইট দিয়ে দেখলাম সামনে কিচ্ছু নেই,,, বুঝতে বাকি রইলো না সব ধোঁকা,, আমাকে মায়া জালে জড়ানো হচ্ছে।
লোকটাঃ- স্যার কোন সমস্যা.??
।
আমিঃ- না মানে ইয়ে মানে হচ্ছে ঐ পিচ্চিটা কে.??
।
লোকটাঃ- স্যার যে সব কাহিনী ঘটছে আমরা আসার পর আমার মনে হচ্ছে এখানে থাকাটা ঠিক হবে না,,আপাতত বাহিরে একটা নিরাপদ স্থানে যাই,,তারপর সব বলি আস্তে আস্তে।
।
আমিও দেখলাম আপাতত ভুতনীটা ক্ষেপে আছে,,তাই এখানে না থেকে বাহিরে যাই,,
পরে বাহিরে এসে একটা জায়গায় বসে লোকটা বলা শুরু করলো,,
লোকটাঃ- স্যার অনেক বছর আগের কথা,, তাও প্রায় ৮-৯ বছর তো হবেই,,এই কটেজটা সুন্দর চলতো,,অনেক লোকজন আসতো এখানে,,আমি এই কটেজের কেয়ারটেকার বা দাড়োয়ান দুইটাই ছিলাম।
হঠাৎ একটা অল্প বয়সি কাপল আসে,,,দেখে বা শুনে বুঝতে পারি তারা ঢাকার ঐ দিক থেকে এসেছিল আর মেয়েটি ছিল গর্ভবতী।
দুজনের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং খুবই ভালো ছিল।
দেখেই বুঝা যায় দুইজন দুইজনকে খুবই ভালবাসে।
আমার সাথেও খুবই ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় অল্পতেই।
সেদিন সম্ভবত ছিল বিশ্ব ভালবাসা দিবস,, রাত ৯-১০ টার দিকে ছেলেটা কটেজে ফিরে অনেক গুলা উপহার সামগ্রী নিয়ে,, সঙ্গে ফুলের তোড়া।
মেয়েটি রুমেই ছিল আর আমি গেইটের সামনে দারোয়ানের রুমটাতে ছিলাম।
ছেলেটি ভিতরে যাওয়ার মিনিট কয়েক পরেই একটা গাড়ি এসে থামে এখানে,,গাড়িতে ৭-৮ জন লোক হবে,,তারা আমার কাছে সিগারেট চায়,,কিন্তু আমি সিগারেট না খাওয়াতে মানা করে দেই,,পরে একজন বলে সিগারেটের দোকান কতদূরে.??
আমি বলি সামনেই বাজার,,গাড়ি নিয়ে যেতে সর্বোচ্চ ৭-৮মিনিট লাগবে,,উনাদের মধ্যে একজন আমাকে উনাদের গাড়িতে উঠে বাজার চিনিয়ে দিতে বলেন,,আমিও দ্বীধা ধন্দ না করেই গাড়িতে উঠে বসি সামনের ছিটটাতে,,গাড়ি কিছু দূর যাওয়ার পরেই হঠাৎ করেই আমি ঘুমিয়ে পরি,,কিন্তু কেনো তা জানি না,,যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন সকাল হয়ে গেছে আর আমি কটেজ থেকে একটু দূরে একটা পাহাড়ের টিলার উপর শুয়ে আছি।
চাকরি চলে যাবে মালিক দেখলে,,,এ ভেবে দৌড়ে কটেজের কাছে এসে পৌঁছালাম,, এসে দেখি 😭😭
।
আমিঃ- কি হল,,কি দেখলেন,,,(অস্থির হয়ে)
।
লোকটাঃ- এসে দেখি মেয়েটার লাশ ঐ গেস্ট রুমের ফেনের সাথে ঝুলছে,,
।
আমিঃ- মানে??? কি সব বলেন..???
।
লোকটাঃ- জি স্যার সব সত্যি কথা।
আমি গেইট দিয়ে ঢুকে দরজা ধাক্কা দিতেই 😭😭
।
আমিঃ- আর ঐ লোকটা মানে যে মেয়েটার স্বামী ছিল.. সে কোথায় ছিল বা তাকে কি অবস্থায় পাইছেন.??
।
লোকটাঃ- স্যার সত্যি বলতে আমার আর সাহস হয় নি ভিতরে যাওয়ার,, আর এর পিছনেও কারন আছে,,আমি এই বাড়ির কেয়ারটেকার,, যদি রাতে সত্যি খুন হয়ে থাকে তাহলে আমি কোথায় ছিলাম এমন প্রশ্ন সবার আগে উঠবে,,কেউ বিশ্বাস করবে না যে আমি কোন অবস্থায় ছিলাম,,তাই আমি যাতে মিথ্যা কেসে ফেঁসে না যাই সেই জন্য এখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম।
প্রায় ৬ বছর পর গ্রামে ফিরছি।আর এসে তো একেকজনের মুখে একেক ভৌতিক রহস্যময় কাহিনী শুনছি।
তবে আমার মনে হচ্ছে সেই মেয়েটাই ঐ পেত্নী বা ভুত যে সবাইকে মারছে,,মানে ঐ মেয়ের আত্মা।
আর আজকে আরেকটা বিষয় লক্ষ করলাম এখানে এসে আর তা হচ্ছে বাচ্চা মেয়ে,, আমার মনে হয় ঐ মেয়ের পেটে যে সন্তান ছিল সেইটাই এই পিচ্চি ভুত হবে।
যে দুনিয়ায় আসার আগেই মায়ের গর্ভেই মারা গেছে।
।
আমিঃ- ও মাই গড,,,তাহলে তো অন্য রকম কেস,, ঐ মহিলা ভুতটার সাথে কথা বলে এর একটা বিহিত করতে হবে,, আর আমার মনের ভিতর উঁকি দিচ্ছে যতটা ডায়েরি পড়ে বুঝতে পারছি তাতে মহিলাটার শাশুড়ী এই খুন করিয়েছেন কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে কোন মা তে নিজের ছেলেকে খুন করাবে না,,তাহলে..?
আর তাইযদি হয়,,অন্য কেউ যদি মেয়েটা সহ লোকটাকে খুন করে থাকে তাহলে কারা মেরেছিল আর কেনো..?
তার আগে আরেকটা জিনিস বের করতে হবে,,যখন মহিলাটার লাশ বের করা হয় তখন কি পুরুষটার লাশ ও ছিল..??
যাইহোক সকল প্রশ্নের উত্তর আস্তে আস্তে বের করতে পারলেই এই মৃত্যুর সমস্যার সমাধান করা যাবে।
।
রাতে কটেজে ফিরে আসলাম,, কিন্তু ঐ লোকট আর আমার সাথে ফিরলো না,,কারন আমি যতটা ভয়ংকর জিনিস দেখছি তার থেকে নাকি কয়েকগুণ বেশি দেখছে সে,,তাছাড়া তার উপর নাকি তাকে ওয়াশরুমের দরজার সামনে রেখে আসার পর উনাকে হামলা করেছিল, হয়তো উনি দারোয়ান ছিলেন তাই উনার উপর মারার জন্য আক্রমণ করা হয়েছিল,, সব মিলিয়ে লোকটা আর সাহস করে নি ঐ কটেজে ফিরে যেতে,,
উনাকে উনার বাড়ির রাস্তায় রেখে আমি কটেজে ফিরে এলাম,,
আসার সাথে সাথে আগের মতন সেই তান্ডব কান্ড শুরু,,
কিন্তু এবার আর বিচলিত হলাম না,,,
কারন ভয় পেলে সমস্যার সমাধান হবে না,বের করতে পারবো না আসল রহস্য যদিও আমার ১০০% ধারনা সবটা মহিলার শাশুড়ী করিয়েছেন তবুও সত্যতা নিশ্চিত না করে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
ঠান্ডা গলায় কথা বলতে শুরু করলাম,,,
।
আমিঃ- কেয়া,,,কেয়া,,,আমি জানি আপনার সাথে সব অন্যায় করা হয়েছে,,আর সব কিছুর জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি সবার পক্ষ থেকে।
আমি একজন পুলিশের লোক,,আমি এসেছিলাম এই রহস্য বের করার জন্য,, কিন্তু এখানে এসে যা দেখলাম বা শুনলাম, যা বুঝলাম আপনার ডায়েরি পড়ে তাতে আপনার উপর জন্ম থেকেই রীতিমতো অবিচার করা হয়েছিল, আর শেষে এসে😥😥 যাইহোক আপনি তো একটা সময় ভালো ছিলেন,, মানুষ হিসেবে যথেষ্ট পরিমাণ ভালো, যদিও রাগে বা ক্ষোভে আপনি প্রতিশোধের নেশায় অনেকে কেই খুন করেছেন,, এটাও কিন্তু অন্যায়,,কারন দুনিয়ার সকল মানুষ তো আর খারাপ না,,তাছাড়া সবাই তো আর আপনার ক্ষতি করে নি,,তাহলে যারা ক্ষতি করে নি তাদেরকে কেনো শাস্তি দিচ্ছেন.??
(কথা গুলা জোরে জোরে বলছি কারন আমার সামনে বা পিছনে বা সাইটে যে কোন একজায়গায় না এক জায়গায় কেয়া নামের সেই মহিলার আত্মা আছেই,কিন্তু আমার কথা গুলো হয়তোবা উনার পছন্দ হয় নি, কিংবা সহ্য করতে পারছেন না তাই চেয়ার দিয়ে আমার দিকে পিছনে থেকে ছুড়ে মারছে,, পিছনে থেকে হামলায় বুঝতে পারি নি একদম গায়ে এসে লাগে,,ঘাড়ের কাছে লেগে রক্ত বেরিয়ে আসলো।)
আহহহ বলে ব্যাথায় কাতরাচ্ছি,,,
আস্তে আস্তে বসে পরলাম ফ্লোরে,,
আবার বলতে শুরু করলাম,,
আমিঃ- দেখেন আমি চাইলে আপনার অস্তিত্ব এই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলিন করে দিতে পারি,,কিন্তু সেইটা না করে আমি আপনার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি,,কারণ আসল রহস্য জেনে মে অনুযায়ী আপনাকে সাহায্য করতে চাই,, যারা আপনাকে হত্যা করেছেন তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই,,আমি চাই আপনি এবং আপনার মেয়ে,, আচ্ছা নিজের কথা বাদ দেন আপনার মেয়ের হত্যার বিচার,, আপন্র স্বামী সায়েম হত্যার বিচার তো আপনি করতে দিবেন নাকি.??
এভাবে শত শত মানুষকে হত্যা করলেও আপনি তো আসল খুনিকে মারতে পারছেন না,,তাদের তো বের করতে পারছেন না,,কারন আমি এই তিনদিনে এতটুকু বুঝতে পারছি যে আপনি এই বাড়ির বাহিরে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।
আপনি এই বাড়িতেই,, বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে আঁটকে আছেন,,প্লিজ আপনি একটু সাহায্য করলে আমি আপনাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
কোন প্রকার রেসপন্স পাচ্ছি না তবে আর কেন অসুবিধাও হচ্ছে না।
কোন শব্দ বা ভয় দেখানোর মতন কোন সমস্যা হচ্ছে না,, এমনকি আমাকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে আসলো,,পুরো ঘর আলোকিত হয়ে গেল,, গত কয়েকবছরের মধ্যে আজ প্রথম বার রাত ১২ টার পর এই বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে।
এদিকে যতটা খুশি লাগছে অপরদিকে ততটাই কষ্ট হচ্ছে পিছনে ঘাড়ের ব্যাথায়।
আস্তে আস্তে ব্যাথায় নুইয়ে পড়লাম,,ফ্লোরে শুয়ে পড়লাম বসা থেকে।
কখন যে অজ্ঞান হয়ে গেছি জানি না।
যখন হুশ ফিরে তখন আমি বিছানায় শুয়ে আছি।
আর আমার চারদিকে ওসি সাহেব সহ ৮-৯ জন কনস্টেবল দাড়িয়ে আছে।
সবাই কৌতুহল নিয়ে অপেক্ষায় ছিল আমার কখন হুশ ফিরে সেই জন্য।
আমার জ্ঞান ফিরে আসায় সবাই খুশি কিন্তু সবার মনে প্রশ্নের বেড়াজাল ঘুরপাক খাচ্ছে।
ওসি তো প্রশ্ন করেই বসলেন,,,
ওসি সাহেবঃ- কৌশিক সাহেব,, আপনি এভাবে অসুস্থ অবস্থায় মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে পরে আছেন.?? কি হইছিল ঘাড়ে ব্যান্ডেজ কেন.??
।
কথাটা শুনেই মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো,,
ব্যন্ডেজ মানে.??
তাহলে কি ভুতে ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে দিল.??
কি হচ্ছে কিচ্ছু বুঝতে পারছি না,, ভুতে ম রে আবার ভুতেই কি ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে দিছে নাকি অন্য কেউ এসে বেঁধে দিল.??
সত্যতা নিশ্চিত করতে দৌড়ে ডায়েরিটার কাছে গেলাম যেখানে রেখেছিলাম আর সেখানে গিয়ে দেখি,,,,???

0 Comments